আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা নিয়ে মুখ খুলতে চাইল না রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপি নেতা সায়ন্তন বসুর বক্তব্য একজন আই এ এস অফিসার যদি পদত্যাগ করেন বা চাকরি ছেড়ে দেন, সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। এবার কেন্দ্রীয় সরকার কি করবে, আইন কি বলে সেটা দলের পক্ষে বলা সম্ভব নয়। 

এদিন সায়ন্তন বসু বলেন কেন্দ্রীয় সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে, এই বিষয়ে তাই মান্যতা দেওয়া হবে। তাই এত আগে থাকতে কোনও মন্তব্য করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নজর রাখছে রাজ্য বিজেপি। সিদ্ধান্ত জানার পরেই মন্তব্য করা যাবে। এটা পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট। একজন অফিসারের এক্সটেনশন হয়েছিল সেটা নিয়ে বা না নিয়ে ইস্তফা দিলেন। এই বিষয়ে নিয়ম কানুন, আইন কি আছে না আছে সেটা কেন্দ্রীয় সরকার জানেন। তারা সেটা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিজেপি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করবে না বলে জানিয়ে দেন সায়ন্তন। তাঁর দাবি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় একজন আই এ এস অফিসার ছিলেন। তাই সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারত সরকার নেবে, তার পরই বোঝা যাবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। তার আগে বোঝা সম্ভব নয়।

এদিকে, কেন্দ্রের নির্দেশ সত্বেও মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে রিলিজ দেয়নি রাজ্য। আলাপনের বদলি নিয়ে চরমে পৌছল রাজ্য-কেন্দ্রের সংঘাত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হবেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব হচ্ছেন এইচ কে দ্বিবেদী।

'আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়ছে না রাজ্য' এই মর্মে এবার প্রধানমন্ত্রী মোদীকে চিঠি লিখে জানিয়েলেন মমতা। গত কয়েকদিন ধরে মুখ্যসচিবকে নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে সেটা অত্যন্ত দুভাগ্যজনক বলে চিঠিতে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন এই মুহূর্তে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের রিলিজ অর্ডার দিতে পারছে না , তাও চিঠিতে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠির শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে মমতার অনুরোধ জানিয়েছেন, 'আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিল্লিতে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ প্রত্যাহার করুক কেন্দ্র।'