দুপুরের খাওয়া হোক কি রাতের খাওয়া, ভরপেট খেলেই অনেকের বদহজম হয়ে যায় সঙ্গে-সঙ্গে। হজমের ওষুধ খেলে সমস্য়া কিছুটা কমে বটে। কিন্তু পরের দিন আবার যে-কে সেই।

প্রশ্ন হল, কীভাবে রেহাই পাবেন এই সমস্য়া থেকে।

প্রথমেই বলে রাখা ভাল, কখনই ভরপেট খাওয়া ঠিক নয়। পেটে একটু জায়গা রেখে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে ডিনারে ভরপেট খাওয়া তো কখনই উচিত নয়।

খাওয়ার পরেই জল খাবেন না। জল খেলে পাচকরসগুলি ঠিকমতো খাবার হজম করাতে পারে না। খাওয়ার অন্তত আধ থেকে এক ঘণ্টা পরে জল খান।  খাওয়ার পর ভুলেও শুতে যাবেন না। সে দিবানিদ্রাই হোক কী রাতের ঘুম। যাঁদের হজমের সমস্য়া, তাঁরা যেন খাওয়ার অন্তত  দু-ঘণ্টা পর শুতে যান। নইলে  অ্য়াসিডিটি অবধারিত। খাওয়ার পর আবার অনেকে স্নান করেন। ভুলেও এ কাজ  করবেন না। কিছুক্ষণ সময় নিন, তারপর স্নান করতে যান। কারণ, স্নান করলে শরীর বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্য়ঙ্গের রক্ত চলাচল বেড়ে যায়। যাতে করে হজমের অসুবিধে হয়।

অনেকেই অভিযোগ করেন, একদম হালকা খাবার খেয়েছি, তা-ও অম্বল হয়ে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে  দেখা গিয়েছে, কোমরে কষে বেল্ট পরে থাকার কারণেও অম্বল হয়। বদহজম হয়। তাই  বেল্ট
একটু আলগা করে দিয়ে খেতে বসুন। আর, খাওয়া হয়ে গেলেই শক্ত করে বেল্ট না-পরে একটু আলগা রাখুন। দরকার হলে, প্য়ান্টও একটু আলগা করে পরুন।

খাওয়ার পর অনেকে আবার শুয়ে শুয়েই টিভি দেখতে থাকেন, বই পড়তে থাকেন। এমনিতে এই অভ্য়েস খারাপ কিছু নয়। তবে এতে করে হজমের সমস্য়া হয়। খাওয়ার পর যতটা সম্ভব উঠে বসুন। উঠে  বসে যা করার করুন। শোওয়ার ভঙ্গিতে থাকলে হজমের সমস্য়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

অনেকে আবার খাওয়ার পরেই চা-কফি খান। যাদের এতে অভ্য়েস আছে ভাল। কিন্তু অন্য় অনেকেরই এতে সমস্য়া হয়। এমনকি বলা হয়, চপ-কাটলেট খাওয়ার পরেও চা-কফি খাওয়া ভাল নয়। কারণ, তাতে হজমের সমস্য়া হয়। আর ভরপেটে চা-কফি খেলে তো বদহজম হওয়াই স্বাভাবিক। অবশ্য়, চাইলে খাওয়ার খানিক্ষণ পরে একটু গরম জল খেতে পারেন। তাতে করে বরং হজমের সুবিধেই হবে। কিন্তু চা-কফি,ঠান্ডাপানীয় বা ঠান্ডা জল একেবারেই নয়।

অনেকে মনে করেন,  খাওয়ার পর খানিক্ষণ হাঁটলে হজম ভাল হয়। সবক্ষেত্রে কিন্তু এ কথা খাটে না। বরং অনেকক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, খাওয়ার পর হনহনিয়ে হাঁটলে  হিতে বিপরীত হয়। একান্তই যদি হাঁটতে হয়, খাওয়ার খানিক্ষণ পর হাঁটুন আর একটু ধীরে ধীরে হাঁটুন।