কথায় আছে বুদ্ধির মতো শক্তিশালী অস্ত্র আর কিছু নেই। তবে শৈশব থেকেই যাতে বুদ্ধির বিকাশ ঘটে সেই দিকে বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখা উচিত। শৈশবে শিশুদের সব কিছু জানার প্রতি বিশেষ আগ্রহ থাকে।  এই আগ্রহ যত বেশি হবে বা কোনও কিছু নিয়ে ভাববার শক্তি ছোট থেকে বেশি হলেই পরিণত বয়সে কোনও বুদ্ধি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না। ছোট থেকেই শিশুর ডায়েটে এমন কিছু খাবার রাখা দরকার যা শিশুর বুদ্ধি বিকাশে ঘটাতে পারে। এই খাবারগুলি ডায়েটে থাকলে স্কুল থেকেই শিশুর পড়াশোনা, কাজ কর্ম, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ দেখার মতো হয়। 

দেখে নেওয়া যাক শিশুর বুদ্ধির বিকাশে কোন খাবারগুলি ডায়েটে রাখবেন- 


১) ডিম- ডিমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে। নিয়মিত ডিম খেলে শিসুর কাজের প্রতি মনোনিবেশ করার ক্ষমতা বেড়ে যায়। ব্রেকফাস্টে ডিম দিন শিশুকে। রোজ নিয়মিত ডিম খাওয়ালে শিশুর এনার্জি লেভেলও ভালো থাকে। বিভিন্ন ভাবে রান্না করে ডিম খাওয়ান। তবে শিশু ওভারওয়েট থাকলে ডিমের সঙ্গে মাখন, চিজ ইত্য়াদি খাওয়াবেন না। 

আরও পড়ুনঃ স্বস্তির ঘুম ঘুমতে জেনে রাখুন কী কী করা উচিত আর কোন অভ্যাস এড়িয়ে যাবেন

২) বাদাম- রোজ অল্প করে বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা। বিশেষ করে শিশুকে রোজ আমন্ড খাওয়ান। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনেরাল থাকে।  বাদাম খেলে শরীরে ভালো ফ্যাট যুক্ত হয়। আমন্ড খেলে স্মৃতিশক্তিও ভালো হয় আর মস্তিষ্ক ভালো কাজ করে। 

৩) শিশু যদি ওভারওয়েট হয়, তা হলে তার ডায়েটে অবশ্যই ওটস রাখুন। ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন ই, জিঙ্ক ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকে। এর ফলে মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে তাড়াতাড়ি। সঙ্গে হজম শক্তিও বাড়ে। একটি হেলথ ওয়েবসাইট থেকেই জানা যাচ্ছে, অন্যান্য খাবারের বদলে যে শিশুরা ছোট থেকেই ওটস খায় তারা স্কুলে পড়াশোনায় ভালো ফল করে। 

৪) শিশুরা ফাস্ট ফুড ও প্রসেসড ফুড খেতে ভালোবাসে। কিন্তু ডাল ভাতের মতো উপকারী কিছু নয়। পুষ্টিবিদরা ডায়েটে তাই শস্য জাতীয় অর্থাৎ ভাত, ডাল, গম, ইত্যাদি খাবার রাখতে বলছেন। এতে ফাইবার ও নানা রকমেক ভিটামিন থাকে। এতে এমন কিছু উপাদান থাকে যা শিশুদের স্মৃতি শক্তি বাড়ায় ও মস্তিষ্কে ভালো রাখে। 

৫) ছোটবেলায় শিশুদের জোর করে দুধ খাওয়াতে হয়। কিন্তু দুধ শিশুদের বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। রোজ এক গ্লাস দুধ খেলে শুধু বুদ্ধির বিকাশই নয়। শিশুর হাড় ও দাঁতও ভালো থাকে। 

প্রসঙ্গত, সাধারণত এই খাবারগুলিই পুষ্টিবিদরা সার্বিক ভাবে শিশুদের খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু শিশুর যদি কোনও বিশেষ সমস্যা থাকে বা এই খাবারগুলি খাওয়ার উপরে কোনও নিষেধাজ্ঞা থাকে তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই তার ডায়েট তৈরি করুন।