মটরশুঁটি হল লেগিউম জাতীয় উদ্ভিদ। মটরশুঁটি মধ্যপ্রাচ্য এবং নিকটপ্রাচ্যে খাওয়া হয়। প্রাচীন পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুসারে নিওলিথিক যুগের সিরিয়া, তুরস্ক, এবং জর্ডান এ মটরশুঁটির খোঁজ পাওয়া গেছে। প্রাচীন মিশরের নীল নদের ব-দ্বীপ এলাকায় প্রায় ৪৮০০-৪৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, এবং উচ্চ মিশরে ৩৮০০-৩৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এর ব্যবহারের কথা উল্লেখ পাওয়া যায়। জনপ্রিয় এই সবজির পুষ্টগুণ অনেক। এই মরশুমে তাই খাদ্য তলিকায় মটরশুঁটি রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। ভেজিটেরিয়ানদের পুষ্টির চাহিদা পূরণের জন্য মটরশুঁটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

আরও পড়ুন- ক্যানসার থেকে হৃদরোগ, সবেতেই কার্যকরী পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই আলু

মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ,কে, সি ও বি-কমপ্লেক্স। সেই সঙ্গে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড, বিটাক্যারোটিন, ফসফরাস, জিঙ্ক,আয়রন, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, কার্বোহাইড্রেট,ম্যাগনেশিয়াম ও পটাসিয়াম। একইসঙ্গে মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার। ওজন নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে মটরশুঁটি। পাশাপাশি মটরশুঁটিতে থাকা উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। গবেষকদের মতে, মটরশুঁটিতে থাকা নায়াসিন খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তনালীতে থাকা ব্লক কমাতে সাহায্য করে। 

আরও পড়ুন- ডায়াবেটিসকে বশে রাখতে চান, তবে অবশ্যই পাতে রাখুন এগুলি

মটরশুঁটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রোধের বেশ কার্যকর। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রোধে চিকিৎসকেরা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, যা পরিপারক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। মটরশুঁটি অ্যানিমিয়া ও ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে। একইসঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে মটরশুঁটি। এতে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন যা হাঁড় শক্ত করতেও সাহায্য করে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও কার্যকারী ভূমিকা পালন করে। মটরশুঁটিতে থাকা উপাদান ব্লাডপ্রেসার কমাতে এবং হার্টের জন্যও উপকারী। মটরশুঁটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পলিফেনল যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।