কথায় বলে পালং খেলে পালোয়ান হবে। ঠিকই তো। তবে বলাই বাহুল্য়, শুধু ছোটদের জন্য় নয়, সব বয়সের জন্য়ই পালং শাক অত্য়ন্ত উপকারী। ১০০ গ্রাম কাঁচা পালং শাক থেকে পাওয়া যায় ২৩ ক্য়ালোরি, ২.৯ গ্রাম প্রোটিন,  ৩.৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ০.৪ গ্রাম সুগার, ২.২ গ্রাম ফাইবার,  ০.৪ গ্রাম ফ্য়াট ও ৯১ শতাংশ জল। পালং শাকে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কম কিন্তু ইনসলিউবল ফাইবার উচ্চমাত্রায় থাকে। যা, আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে ঠিকঠাক রাখে। কোষ্ঠকাঠিন্য় দূর করে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেলস থাকে।

পালংয়ে উচ্চমাত্রায় ক্য়ারোটিনয়েড থাকে, যা আমাদের শরীরে ভিটামিন-এ হিসেবে কাজ করে। এতে থাকে অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট ভিটামিন-সি, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ও ত্বকের স্বাস্থ্য় রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা নেয়। পালংয়ে থাকে ভিটামিন-কে-১, যা আমাদের রক্ত জমাট বাঁধতে খুব প্রয়োজনীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। এতে থাকে ফোলিক অ্য়াসিড বা ফোলেট বা ভিটামিন-বি-৯, যা গর্ভবতী মহিলাদের জন্য় খুব দরকারি এবং আমাদের কোষের কার্যক্ষমতা ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য় করে।

পালং শাক থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় আয়রন। যা রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য় করে। এতে থাকে ক্য়ালশিয়াম। যা আমাদের হাড়ের স্বাস্থ্য়, স্নায়ুতন্ত্র আর হার্টের জন্য় খুব উপকারী। পালংয়ে থাকে ল্য়ুটেন। যা আমাদের চোখের স্বাস্থ্য় রক্ষায় কাজ করে। এতে থাকে অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট কায়েমপফেরল, যা কিছু ক্রনিক অসুখ এবং ক্য়ানসারের ঝুঁকি কমায়। পালং শাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রেট, যা আমাদের হার্টের সুরক্ষায় কাজে দেয়। প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে কাজ করে অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট কিউআরসেটিন। পালং থেকেই এই বিশেষ অ্য়ান্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। পালংয়ে থাকে জিয়াজ্য়ানথিন। এটি আমাদের চোখের স্বাস্থ্য় রক্ষায় কাজ করে। এমনকি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে  রাখতেও পালংয়ের জুড়ি নেই।