শাহজাহান আলি, পশ্চিম মেদিনীপুর : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য দপ্তরের বড় মাথাব্যথার কারণ এখন পরিযায়ী শ্রমিক।কারণ জেলাতে এখানকার কেউই করোনাতে আক্রান্ত নয়,দিল্লি মুম্বাই ফেরত পরিযায়ীরা এলাকায় প্রবেশ করতেই একের পর এক ধরা পড়ছে করোনা পজেটিভ।শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ স্বাস্থ্য দপ্তরের করা হিসেবে জেলার ১১ জন নতুন করে করনা পজেটিভ, যার ৬ জন মহারাষ্ট্র থেকে আগত, ৫ জন দিল্লি থেকে। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার কেশপুর থানার অন্তর্গত পঞ্চমী ও চাঁদবাড় গ্রামে দিল্লি ও মহারাষ্ট্র ফেরত দুই যুবক করনা সংক্রমিত ধরা পড়তেই প্রতিবেশী নরসিংহ গ্রামের লোকজন বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে সংক্রমিত গ্রাম থেকে নিজেদের আলাদা করে নিল রাতেই।

পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলার কেশপুর থানার নরসিংহপুরের এই আশঙ্কা সঠিক কিনা জানতে গিয়ে জানা গেল সত্যি সত্যি কেশপুরের ২পরিযায়ী শ্রমিকের দেহে করোনার অস্থিত্ব মিলেছে । আর সেই খবর পাওয়ার পরই ওই দুই শ্রমিককে শুক্রবার সন্ধ্যাতেই পূর্ব মেদিনীপুরের মেচোগ্রামের বড়মা কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে দুই পরিবারে সংস্পর্ষে আসা সদস্যদের। জানা গেছে আক্রান্ত ওই দুই শ্রমিকের একজন দিল্লি ও অন্যজন ফিরেছিলেন মহারাষ্ট্র থেকে। ফেরার পথেই তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করা হয় যার ফলাফল আসে শুক্রবার।

নরসিংহপুরের যুবক ভোম্বল অধিকারী ও অমিত অধিকারী জানালেন, 'দেখুন সরকার ওই গ্রামে কন্টেনমেন্ট জোন করুক, স্যানিটাইজেশন করুক কিংবা গোটা গ্রামকেই কোয়ারেন্টাইন করুক আমাদের কিছু বলার নেই ।এখন আমাদের শুধু নিজেদের গ্রামকে বাঁচাতে হবে। পালে পালে মানুষ ঘরে ফিরছেন। প্রতিটি গ্রাম ভরে যাচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকে। ঘরের মানুষ ঘরে ফিরুক কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমাদের গ্রামের ওপর দিয়েই অনেকগুলি গ্রামের যাতায়ত। তাঁরা যাচ্ছেন, কখনও গাছের ছায়ায় কখনো আমাদেরই কারও বাড়ির দাওয়ায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। ফলে কোথায় কোন পথে করোনা আসবে বলা যাচ্ছেনা তাই ঝুঁকি নিচ্ছিনা। গ্রামের সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্য সব গ্রাম থেকে আলাদা করে নেব আমাদের। আপাতত এই গ্রামে ঢোকা ও বেরুনো বারন। পরে অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা।"

উল্লেখ্য এই নিয়ে জেলায় মোট ১১ জন পরিযায়ী শ্রমিক আক্রান্ত হলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় যার মধ্যে ৬ জন মহারাষ্ট্র ও ৫জন দিল্লিতে থেকে ফিরেছিলেন। শুক্রবারই  জেলার পক্ষে ভাল খবর এসেছিল। কয়েকজন পরিযায়ী সহ সাতজন ফিরেছেন করোনা মুক্ত হয়ে। সেই হিসাবে বর্তমানে ৪ জন কোভিড পজিটিভ হিসাবে চিকিৎসাধীন, তবে  শুক্রবার নতুন করে ২ জন আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসাধীন রইলেন ৬ জন।