২০০১ সালে বামিয়ানে বৌদ্ধমূর্তি ধ্বংস করেছিল তালিবানরাতার ১৯ বছর পর প্রায় একই ঘটনা ঘটল পাক-অধিকৃত কাশ্মীরেনবম শতকের বৌদ্ধ পাথর খোদাই-এর উপর লেখা হল স্লোগানতীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারত 

প্রায় তালিবানদের পথেই চলেছে ইমরান খানের 'নয়া পাকিস্তান'। বামিয়ানে বুদ্ধ মূর্তি ধ্বংসের মতো সম্প্রতি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলেও পাথরের উপর খোদাই করা বুদ্ধ মূর্তি ভাঙচুরের করা হয়েছে। বুধবার এই ঘটনা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও উষ্মা প্রকাশ করল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব এই জঘন্য কাজকে প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবমাননা বলে অভিহিত করেছেন। এখানেই শেষ নয়, ওই প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সেখানে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের প্রবেশাধিকার চেয়েছে মন্ত্রক। সেই সঙ্গে ফের একবার পাকিস্তান-কে অবিলম্বে 'অবৈধভাবে দখলকৃত' সমস্ত অঞ্চল খালি করে দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে ভারত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred
Scroll to load tweet…

বৌদ্ধ খোদাইকৃত ভাষ্কর্যের ভাঙচুরের ঘটনাটি প্রকাশ্যে এসেছে গত মঙ্গলবার। পাক-অধিকৃত কাশ্মীর বা পিওকে-র গিলগিট-বালটিস্তানের চিলাস এলাকায় পাথরে খোদাই করা বুদ্ধমূর্তি শুধু ভাঙা হয়নি, সেই শিলার উপর বৌদ্ধদের অবমাননাকারী বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছে। আঁকা হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে গিয়ে তাদের ঐতিহ্য়মণ্ডিত ওই ধর্মস্থলের ভাঙচুরের কথা জানতে পারেন। তাদের দাবি স্লোগান ও পাক পতাকা আঁকতে যে রঙ ব্যবহার করা হয়েছে তা একেবারে টাটকা।

যা হয়েছে

একটি সূত্রের দাবি পাকিস্তান ও চিনের যৌথ উদ্যোগে ডায়ামারভাশা বাঁধ প্রকল্পের প্রতিবাদ করেছিলেন স্থানীয় বৌদ্ধরা। কারণ বাঁধটির নির্মাণ হলে তা ওই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে পারে। সেই প্রতিবাদীদের প্রতিশোধ নিতেই এই জঘন্য কাজ ঘটিয়েছে অজ্ঞাত পরিচয় কিছু দুষ্কৃতী।

যা ছিল

২০০১ সালে আফগানিস্তানের বামিয়ান উপত্যকায় তালিবানদের হাতে ধ্বংস হয়েছিল পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি। ধর্মীয় মৌলবাদীদের হাতে সেই শিল্প-সংস্কৃতি ধ্বংস হতে দেখে গোটা পৃথিবী কেঁপে উঠেছিল। তার ১৯ বছর পর ফের একবার সেই মর্মান্তিক স্মৃতি টাটকা করে দিয়েছে পাকিস্তানের মৌলবাদীরা। চিলাস অঞ্চলের খোদাই করা বুদ্ধ মূর্তিগুলি নবম শতাব্দীর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।