আবারও আন্তর্জাতিক মহলকে ধোকা দেওয়ার খেলায় মেতেছে পাকিস্তান। সামনেই ব্যাঙ্ককে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। তার আগে আর্থিক নিষেধাজ্ঞার হাতে বাঁচতে এই মুহূর্তে পাকিস্তান একের পর এক জঙ্গি সংগঠন ও নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করছে। কিন্তু আইনি বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই সবই আসলে পাকিস্তানের ধোকাবাজি। এফআইআর এমনভাবে করা হচ্ছে, তাতে আদালতে সেইসব অভিযোগ ধোপে টিকবে না।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর হাতে গত ১ জুলাই গুজরানওয়ালা পুলিশ স্টেশনের দায়ের করা এক এফআইআর-এর প্রতিলিপি এসেছে। এই এফআইআর-এর ভিত্তিতেই বাফিদ সইদকে আটক করা হয়েছে।  এফআইআর-টি দায়ের করা হয়েছে দাওয়াত-ওয়াল-ইরশাদ সংগঠনের এক সদস্যের একটি জমি চুক্তির বিরুদ্ধে। এই দাওয়াত-ওয়াল-ইরশাদ হাফিজ সইদের লস্কর-ই-তৈবারই একটি শাখা সংগঠন।

এফআইআর-এ অবশ্য ইতিমধ্যে ধৃত হাফিজ সইদ, আব্দুল গফ্ফর, হাফিজ মাসুদ বা আমির হামজার নাম নেই। নেই জামাত-উদ-দাওয়া বা ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত সংগঠনের নামও। দাওয়াত-ওয়াল-ইরশাদ আসলে জামাত-উদ-দাওয়া সংগঠনেরই পুরনো নাম। সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পর প্রশাসনকে ফাঁকি দিতে নাম পাল্টানো হয়েছিল।

আইনি বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন এফআইআর-এ যাদের নাম রয়েছে, তাদের অপরাধ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকী অপরাধের টাইমলাইনও ঠিকভাবে নেই এফআইআর-এ। এছাড়া, অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা আছে সন্ত্রাসবাদের কথা। আইনের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্দিষ্ট কোনও অপরাধের কথা বলা হয়নি। কীভাবে ওই অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল উল্লেখ নেই তাও। ফলে পুরোটাই এইএটিএফ-কে ফাঁকি দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে ফিনাসন্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স পাকিস্তানকে ধুসর তালিকাভুক্ত করেছিল। আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহেই এফএটিএফ-এর সভায় পাকিস্তানকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না রেখে দেওয়া হবে, নাকি একেবারে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, তাই নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। তার আগে তাদের কাছে নিজেদের মখ রক্ষা করতেই আদালতে টিকবে না জেনেই, সেইভাবে মামলা সাজাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।