সম্পর্ক যে কখন কোন খেলা দেখায়, তা কেউই ধারনার মধ্যে আনতে পারে না। যে মানুষটিকে জীবনের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ঠিকানা বলে মনে হত, সেই মানুষটির অন্ধকার দিক যখন আলোয় আসে তখন তাঁর প্রিয়জনের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে বাধ্য। এমনই এক ঘটনার শিকার হয়েছেন ব্রিটেনের এক গৃহবধূ। যার কাহিনি এই মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় চর্চিত হচ্ছে। আর এই কাহিনি সামনে এসেছে একটি অ্যাডভাইসারি সাইটের মাধ্যমে। অ্যাডভাইসারি সাইটগুলির কাজ হল ব্যক্তিগত জীবনে কাউকে কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে সাহায্য করা। ব্রিটেনের এই গৃহবধূ মানসিকভাবে এতটাই হতাশ হয়ে পড়েছেন যে তিনি এমন এক অ্যাডভাইসারি সাইটের দ্বারস্থ হয়েছেন। 

এই গৃহবধূর কথায় তাঁর পিঠের পিছনে তিন দশক ধরে এমন কাজ হয়ে এসেছে তা ঘুণাক্ষরে টেরও পাননি। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী ৩০ বছর ধরে প্যান্টি চুরি করে এসেছেন। যখন-ই তিনি পেরেছেন তাঁর পছন্দের মহিলাদের প্যান্টি চুরি করে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন। ওই গৃহবধূ আরও জানিয়েছেন যে, তাঁর স্বামী যে সব মহিলার প্যান্টি চুরি করেছে তাঁরা সকলেই খুবই কাছের। কারণ, গৃহবধূর দাবি, এই সব মহিলা হয় তাঁর আত্মীয় না হলে বান্ধবী। প্যান্টি থেকে গন্ধ নেওয়ার জন্য স্বামী এমন কাজ করতেন।

স্বামী কীভাবে স্ত্রী-র মহিলা আত্মীয় এবং বান্ধবীদের প্যান্টি চুরি করতে পারল তা ভেবেই পাচ্ছেন না। গৃহবধূ জানিয়েছেন, সম্প্রতি স্বামী তাঁর এই প্যান্টি চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। এভাবেই একেবেরিয়ে এসেছে একের পর এক প্যান্টি চুরির গল্প। গৃহবধূ জানিয়েছেন, নানা সময় তাঁর সেইসব মহিলা আত্মীয় এবং বান্ধবীরা প্যান্টি চুরি যাওয়ার গল্প করেছিলেন। এইসব ঘটনার পিছনে যে তাঁর স্বামী রয়েছেন তা কোনওদিন বুঝতে পারেননি। 

স্বামীর এই কুর্কীতি জানার পর থেকে নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে মনে হচ্ছে। এমনকি ওই গৃহবধূ দাবি করেছেন তিনি অসুস্থ বোধ করছেন। ভেবে পাচ্ছেন না ঠিক কীভাবে বিষয়টি সামলাবেন। গৃহবধূর মনে হচ্ছে হয়তো এবার তাঁর বিবাহিত জীবনের ইতি পড়ে যাবে। নিজের প্রাণের থেকে প্রিয় মানুষটাকে তিনি এবার হয়তো হারাতে চলেছেন। এমনই সব দুঃশ্চিন্তা তাঁকে এখন গ্রাস করছে। 

হাউ টু ডিল ইট-নামে বিষয়ে স্লেট ডট কম-এর সেক্স কলম-এ ওই গৃহবধূ জানিয়েছেন, বিয়ের সময় থেকে তিনি তাঁর স্বামীকে চেনেন। কোনওদিনই কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতি তাঁর চোখে পড়েনি। বরং খুবই যত্নশীল এবং এক সংবেদনশীল মানুষ হিসাবে তিনি স্বামীকে দেখে এসেছেন। দাম্পত্যের যৌনতায় স্বামীকে তাঁর বরাবরই অতিসক্রিয় বলে মনে হয়েছে। এই বিষয়টি পার্টনার হিসাবে বরং তিনি উপভোগ করে এসেছেন। এমনকি স্বামী অত্যন্ত স্টাইলিস প্যান্টি সামনে রেখে হস্তমৈথুন করতে ভালোবাসেন-সেটাও ওই গৃহবধূ জানতেন। কিন্তু, স্বামীর এই যৌনক্রীড়া নিয়ে কোনওদিনই তিনি আপত্তি জানানি। তাঁর মনে হয়েছে এতে তাঁদের যৌন-জীবন উপভোগ্য হয়েছে। কিন্তু, এত ভরসার মানুষটা যখন ৩০ বছর ধরে এমন একটি কাজ করে এসেছেন যা অত্যন্ত ঘৃণ্য বলেই তাঁর মনে হচ্ছে। 

অ্যাডভাইসারি ওই সাইটটি অবশ্য মানসিকভাবে ভেঙে পড়া গৃহবধূর পাশেই দাঁড়িয়েছে। তাঁকে নানাভাবে সুপরামর্শও দিয়েছে। অ্যাডভাইসারি সাইটটি জানিয়েছে, স্বামীর সঙ্গে অবিলম্বে এই বিষয়ে বেশি করে কথা বলতে হবে ওই গৃহবধূকে। প্রয়োজনে স্বামীকে কোনও মেডিক্যাল কাউন্সেলিং করাতে হবে। এমনকি, যে সব আত্মীয় ও বান্ধবীদের প্যান্টি চুরি করেছিলেন স্বামী- তাঁদের সঙ্গেও যোগাযোগ করে আসল সত্যটা জানাতে হবে। পারলে স্বামীকে সেখানে নিয়ে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে ওই অ্যাডভাইসারি সাইটটি। স্বামী-কে বোঝাতে হবে যে তিনি তাঁর স্ত্রী বিশ্বাস-কে আঘাত করেছেন। সুতরাং সত্য-এর মুখে দাঁড়াতেই হবে। এই পরিস্থিতিতে স্বামীকে একা ছাড়লে হবে না। তাঁকে সবসময় ভরসা দেওয়ারও পরামর্শ ওই গৃহবধূকে দিয়েছে অ্যাডভাইসারি সাইটটি।