মঙ্গলবারই চলতি মরসুমে সবচেয়ে খারাপ ম্যাচ খেলল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু তারপরেও জয় এল। এবার ১১ বছর পর কোনও সর্বভারতীয় টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি।

শেষমুহূর্তে গোল শোধ। তারপর টাইব্রেকারে সহজেই নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড এফসি-কে হারিয়ে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে পৌঁছে গেল ইস্টবেঙ্গল। এদিন ৭৬ মিনিট পর্যন্ত ০-২ পিছিয়েছিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। ৭৬ মিনিটে নাওরেম মহেশ সিংয়ের শট বক্সের মধ্যে নিজের ও বিপক্ষ দলের ফুটবলারদের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও গোল শোধ হচ্ছিল না। চতুর্থ রেফারি ৮ মিনিট ইনজুরি টাইম দেন। ইনজুূরি টাইমের পঞ্চম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন নর্থ ইস্টের ডিফেন্ডার মিগুয়েল জাবোকো। সেই ফ্রি-কিক থেকেই গোল শোধ হয়। ক্লেইটন সিলভার মাপা ক্রস থেকে হেডে জালে বল জড়িয়ে দেন নন্দকুমার শেখর। এবারের ডুরান্ড কাপের নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত সময়ের বদলে সরাসরি টাইব্রেকার হয়। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে পরপর গোল করেন ক্লেইটন, সল ক্রেসপো, বোরহা হেরেরা, মহেশ ও নন্দকুমার। পার্থিব গগৈয়ের শট প্রথমে সেভ করেন ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার প্রভসুখন গিল। কিন্তু শটের আগেই তিনি গোললাইন ছেড়ে বেরিয়ে আসায় ফের শট নেওয়ার নির্দেশ দেন রেফারি। এবার বারে মারেন পার্থিব। এই মিসই ইস্টবেঙ্গলকে জিতিয়ে দিল।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

একাধিক ফুটবলার হলুদ কার্ড দেখে থাকায় ফাইনালের কথা মাথায় রেখে এদিন প্রথম একাদশে একাধিক পরিবর্তন করেন লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। তিনি বোরহা ও সৌভিক চক্রবর্তীকে প্রথম একাদশে রাখেননি। এই ২ ফুটবলারের বদলে হোসে অ্যান্টনিও পার্দো লুকাস ও নিশু কুমারকে প্রথম একাদশে রাখেন কুয়াদ্রাত। এই জোড়া পরিবর্তন দলের ছন্দ নষ্ট করে দেয়। অনভ্যস্ত পজিশন মিডফিল্ডে মানিয়ে নিতে পারছিলেন না নিশু। দলের বাকিরাও একেবারেই ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারছিলেন না। ২১ মিনিটে প্রথম গোল করে নর্থ ইস্টকে এগিয়ে দেন জাবোকো। এরপর ৫৭ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেন ফাল্গুনি সিং। 

২ গোলে পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফেরার লক্ষ্যে হরমনজ্যোত খাবরার পরিবর্তে ক্লেইটন, জর্ডন এলসের পরিবর্তে গুরসিমরত গিল, পার্দোর পরিবর্তে বোরহা, নিশুর পরিবর্তে সৌভিক ও লালচুংনুঙ্গার পরিবর্তে মহম্মদ রাকিপকে নামান কুয়াদ্রাত। তাঁর পরিবর্তনগুলি কাজে দেয়। আক্রমণে গতি ও বৈচিত্র বাড়াতে না পারলে সমতা ফেরানো সম্ভব হত না।

তবে এদিন ইস্টবেঙ্গল অসামান্য জয় পেলেও, আক্রমণে দুর্বলতা প্রকট হয়ে গিয়েছে। জোড়া স্ট্রাইকার ছাড়া শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় পাওয়া কঠিন। এ বিষয়ে কুয়াদ্রাতকে ভাবতে হবে।

আরও পড়ুন-

মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে দাপুটে জয়, ডুরান্ড কাপের সেমি-ফাইনালে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট

তামান্না ভাটিয়ার 'কাভালা' গানে নেচে বার্সেলোনার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ উগান্ডার শিশুদের

Lionel Messi : লিওনেল মেসির কেরিয়ারের ৪৪-তম খেতাব, প্রথম ট্রফি ইন্টার মায়ামির