তিন দশকের বর্ণময় পেশাদার কেরিয়ার। ২০২০-তে টেনিসকে বিদায় জানাতে চলেছেন লিয়েন্ডার পেজ।  বড়দিনের উৎসবের মাঝে চিরতরে টেনিস র‌্যাকেট তুলে রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিলেন ভারতের সর্বকালের সেরা এই টেনিস তারকা।

তাঁর সমসাময়িক খেলোয়াড়েরা সকলেই অবসর নিয়েছেন। ৪৬ বছর বয়সেও কিন্তু দাপিয়ে টেনিস খেলছেন লিয়েন্ডার পেজ। দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ডেভিস কাপেও।  দিন কয়েক আগে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টাইয়ে ভারতের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ জেতার নজির গড়েছেন লিয়েন্ডার। কিন্তু আর নয়, এবার পেশাদার কেরিয়ারে ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। সকলকে বড়দিন ও  নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে লিয়েন্ডারের টুইট, 'পেশাদার টেনিস প্লেয়ার হিসেবে ২০২০ সালকে আমার বিদায়ের বছর হিসেবে ঘোষণা করতে চাই।' নতুন মরশুমে আর খুব বেশি টুর্নামেন্টেও খেলতে যাবে না তাঁকে। টুইটে লিয়েন্ডার লিখেছেন, '২০২০ সালের অপেক্ষায় আছি। হাতে গোনা কয়েকটি টুর্নামেন্টে খেলব। আমার টিমের সঙ্গে ঘুরব। বন্ধু ও অনুরাগীদের সঙ্গে দারুণ সময় কাটবে।' শেষ মরশুমে অনুরাগীদের  তাঁকে সমর্থন করারও আহ্বান জানিয়েছেন লিয়েন্ডার পেজ। 

১৯৯১ সালে পেশাদার টেনিস জগতে পা রাখেন লিয়েন্ডার। পরে বছর অর্থাৎ ১৯৯২ সালে অলিম্পিকে রমেশ কৃষ্ণণের সঙ্গে জুটি বেঁধে ডাবলসের ফাইনালের ওঠেন। আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৯৬-র অলিম্পিকে সিঙ্গলে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন লিয়েন্ডার। ১৯৫২ সালের পর অলিম্পিকে ব্যক্তিগত বিভাগে পদক এসেছে তাঁর হাত ধরেই। দীর্ঘ তিন দশকের কেরিয়ারে ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেতাব জিতেছেন লি।  তিনি ছাড়া ভারতের আর কোনও খেলোয়াড়ই এতগুলি মেজর ট্রফি জিততে পারেননি। 

ডেভিস কাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ডাবলস খেলোয়াড় ভারতের ৪৬ বছর বয়সী এই টেনিস তারকা।  টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি ৪৪টি ম্যাচ জিতেছেন লিয়েন্ডার। খেলেছেন সাতটি অলিম্পিকেও।  ভারতের আর কোনও অ্যাথলিট এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেননি। আর টেনিস বিশ্বেও আরও কোনও তারকার সাতটি অলিম্পিকে খেলার নজির নেই।