কেন্দ্রীয় সরকার সমস্ত ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কম্পিউটার ফাইল শেয়ারিং ওয়েবসাইট উই ট্রান্সফারকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। দিল্লি পুলিশের অনুরোধে সুরক্ষার কারণে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশন বা ডট বিভাগ সমস্ত ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারীদের উই ট্রান্সফারে উপলব্ধ দুটি বিশেষ ইউআরএল ব্লক করার আগেই নির্দেশ দিয়েছিল। পরে পুরও ওয়েবসাইটটি ব্লক করার জন্য একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে দেশের জনসাধারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্লক করার কারণ

ন্যুডিটি, ম্যালওয়্যার কখনও বা সাইবার হামলার কারণে বা ব্যক্তিগত তথ্য পাচারের অভিযোগে বহু অ্যাপ এর আগে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এখনও পর্যন্ত উই ট্রান্সফারকে ব্লক করার সঠিক কারণগুলি জানা যায়নি। ওয়েবসাইটটি ব্লক করার কারণ কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্টভাবে কিছুই জানায়নি। ওয়েবসাইটে আপত্তিজনক বিষয়বস্তু কি ছিল যার জন্য এটি ব্যান করা হল সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও কারণ নেই। এখন বেশিরভাগ ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহকারীরা তাদের ব্যবহারকারীদের জন্য উই ট্রান্সফার ব্যবহার ব্লক করেছেন। 

উই ট্রান্সফার একটি নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক ডাচ ওয়েবসাইট। ২ জিবি পর্যন্ত ফাইল-এর সাহায্যে অনায়াসে কোনও চার্জ ছাড়াই পাঠানো যেত। লকডাউনে বাড়ি থেকে কাজের ক্ষেত্রে-এর ব্যবহার খানিকটা বেড়েছিল। ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্য উই ট্রান্সফার ইন্টারনেটের একটি খুব সুপরিচিত ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইটটির সারা বিশ্ব জুড়ে কয়েক মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। তবে এটি লকডাউনের সময় ভারতে বেশ বিখ্যাত হয়েছে। 

ভারতে ওয়েবসাইটে এর আগে নিষেধাজ্ঞা ছিল

ভারতে এই প্রথম কোনও ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ হয়নি। এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকার অনেক ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ করেছে। ২০১২ সালের একটি লোকসভার অধিবেশনে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক বলেছিল যে ভারতে ইউআরএল ব্লক করার ক্ষেত্রে ৪৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ইউআরএলে এমন সামগ্রী রয়েছে যা ম্যালওয়্যার বা পর্নোগ্রাফি প্রচার করে বা জাতীয় সুরক্ষার জন্য বা নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলি ব্যান করা হয়েছে।