ক্যাপিটাল হিলে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ হয়েছে হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে। তাঁর ইমপিচমেন্টের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৩২টি। আর বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ১৯৭টি। ১০ রিপাব্লিকান সদস্যও ট্রাম্পকে ইমপিচ করার পক্ষেই মত দিয়েছেন।  কিন্তু মার্কিন ইতিহাসে  ট্রাম্পই প্রথম রাষ্ট্রপতি নন, যাকে ইমপিচ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  তাঁর আগে ইমপিচ করা হয়েছিল বিল ক্লিনন্টন আর অ্যান্ড্রু জনসন। যদিও তাঁরা নিজেদের মেয়াদ পূর্ণ করেছিলেন। যদিও মার্কিন ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম রাষ্ট্রপতি যাঁকে দুবার ইমপিচের মুখোমুখি হতে হল। 


অ্যান্ড্রু জনসন 
আব্রাহাম লিঙ্কনের প্রশাসনের উপরাষ্ট্রপতি ছিলেন অ্যান্ড্রু জনসন। মার্কিন কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের জন্য তাঁকে ইমপিচ করা হয়েছিল। তিনি প্রথম মার্কিন রাষ্ট্রপতি ছিলেন যাঁকে ইমপিচের মুখে পড়তে হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমের মতে ১৮৬৮ সালে অ্যান্ড্রু জনসনের বিরুদ্ধে আইন ভাঙার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে ইমপিচ করার জন্য ১১টি অভিযোগ তোলা হয়। সেগুলি সবকটি অনুমোদন করে কংগ্রেস। সুপ্রিম কোর্টে বিচারও শুরু হয়। পাল্টা সওয়াল করেছিলেন জনসনের আইনজীবীরা। তাঁদের যুক্তি ছিল জনসনকে সংবিধান অমান্য করার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা উচিৎ। কিন্তু তাঁকে পদ থেকে সরানো ঠিক হবে না। শেষপর্যন্ত জনসন ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিলেন। 

বিল ক্লিনটন
ডেমোক্র্যাট রাষ্ট্রপতি বিল ক্লিনটনকে ইমপিচ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের ইনটার্ন মনিকা লুইনিস্কির সঙ্গো যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ তুলে তাঁকে ইমপিচ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। যদিও ক্নিনটন প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছিল শপথ গ্রহণের পরে মিথ্যা করার বলার আর অন্যকে কেলেঙ্কারিতে উৎসাহিত করার। ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য ভোটও পড়েছিল। 

কিন্তু ক্লিনটন বা জনসন কাউকেই মার্কিন সেনেট দোষী সাব্যস্ত করেনি। তাই ইমপিচমেন্টের অর্থ এটা নয় যে প্রক্রিয়া শুরু হলেই তাঁকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আর সেই কারণেই দুই রাষ্ট্রপতি তাঁদের মেয়াদ শেষ করতে পেরেছিলেন। তবে ১৯৭৪ সালে ইমপিচমেন্টের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই নিজের পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন। মার্কিন বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইমপিচ করার অর্থ শুধু পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যাতে ভবিষ্যতের সেই পদে ফিরতে না পারেন তার ব্যবস্থা করা। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যদি ইমপিচ করা হয়, তাহলে আগামী ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি আর অংশ নিতে পারবেন না।