মনে আছে অ্যালান কুর্দিকে? সিরিয়া থেকে ভুমধ্যসাগর পার হয়ে গ্রিসে আসতে গিয়ে নৌকাডুবিতে মৃত্যু হয়েছিল বছর তিনেকের সিরিয়ান শিশুটির। আর দেহ ভেসে উঠেছিল তুরস্কের বোরদুম শহরের বেলাভূমিতে। সেই ছবি সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছিল। প্রায় একই রকমের এক ছবি সামনে এল। এবার স্থান আমেরিকা-মেক্সিকোর মাঝের রিও গ্রান্দে নদী।

জানা গিয়েছে এল সালভাদোর থেকে ২ বছরের শিশু কন্যা ভ্যালেরিয়া ও স্ত্রীকে নিয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নিতে চেয়েছিলেন অস্কার আলবার্তো মার্টিনেজ রামিরেজ। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁদের আবেদন ফিরিয়ে দেয়। এরপরই মেক্সিকো থেকে রিও গ্রান্দে পার হয়ে বেআইনি পথেই আমেরিকায় ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন মার্টিনেজরা - এরকমই জানা গিয়েছে।

প্রথমে ভ্যালেরিয়াকে মেক্সিকোর দিক থেকে নদী পার করিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্টের দিকে এনে, মার্টিনেজ ফিরে গিয়েছিলেন স্ত্রীকে নিয়ে আসতে। কিন্তু এরমধ্যেই ওই শিশুকন্যা বাবার কাছে যাওয়ার জন্য ফের নদীতে ঝাঁপ দেয়। মেয়েকে বাঁচাতে বাবা ফের সাঁতরে ফেরার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাঁদের দুজনকেই স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

সোমবার রিও গ্রান্দের পার থেকে বাবা-মেয়ে দুজনের দেহই উদ্ধার করা হয়েছে। দেখা যায়, দুজনের দেহই মাটির দিকে মুখ করে পড়ে আছে। ভ্যালেরিয়ার মাথা তাঁর বাবার টি-শার্টের মধ্যে গোঁজা। আর তার ছোট্ট হাত দুটো তখনও জড়িয়ে রয়েছে মার্টিনেজের কাঁধ। দেখে মনে করা হচ্ছে শেষ মুহূর্তে বাবাকে আঁকড়ে ধরেই বাঁচতে চেয়েছিল ছোট্ট মেয়েটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই মেক্সিকো ও আমেরিকার মাঝে দেওয়াল তোলার কথা বলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শরণার্থীদের নিয়ে তাঁর প্রশাসন প্রথম থেকেই কড়া মনোভাব নিয়েছে। তারপরও অসহায় মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েও একটু ভাল থাকার লক্ষ্যে পারি দেন মার্কিন মুলুকে। সাম্প্রতিককালে তিন শিশু-সহ বেশ কয়েকজন শরণার্থীর এই বেআইনি পথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে গিয়ে প্রাণ গিয়েছে। অ্যালান কুর্দি বা ভ্যালেরিয়ারা রাজনৈতিক কচকচি বোঝে না, কিন্তু বড়দের রাজনীতির বলি হয়ে যায়।