বুধবারই ফ্রান্স থেকে ভারতে এসে পৌঁছেছে পাঁচটি রাফালে যুদ্ধবিমানের প্রথম দলটি। ২৭ জুলাই ফ্রান্স থেকে বিমানগুলি নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলটরা। মাঝপথে কী ভারতীয় রাফালগুলি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছিল ইরান? এমনটাই জাবি করা হচ্ছে মার্কিন সেনা ও মার্কিন সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে।

ফ্রান্স থেকে ভারতের আসার ৭০০ কিলোমিটার পথে একবার থেমেছিল রাফাল বিমানগুলি। ২৮ জুলাই রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছিল পাঁচটি ভারতীয় রাফাল। আর সেই ঘাঁটির খুব কাছেই অন্তত তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে। আল ধাফরা বিমানঘাঁটিটি, সংযুক্ত আরব আমিরাশাহির রাজধানী আবু ধাবি থেকে মাত্র এক ঘন্টার পথ।

এক প্রথম সারির মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলি জানিয়েছে, আগেই আমিরশাহির আল ধাফরা এবং কাতার-এর আল উদাইদ বিমানবন্দরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হানার বিষয়ে সতর্ক করেছিল মার্কতিন গোয়েন্দারা। সেখানে উপস্থিত কর্মীদের এবং সামরিক সাজ সরঞ্জজাম নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ওই ঘাঁটিতে কোনও ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়েনি। তবে আল ধাফরা ঘাঁটির খুব কাছেই সাহরের জলে পড়েছিল অন্তত তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র।

জানা গিয়েছে হরমুজ প্রণালী-তে ইরান এখন যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছে। সেখানে একটি একটি নকল যুদ্ধবিমমান বাহক জাহাজকে লক্ষ্য করে তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। তারমধ্যে বেশ কয়েকটি মধ্য-প্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করেও ছোঁড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ মার্কিন সেনার। এমনকী দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-ও ছোঁড়া হচ্ছে।

এমনিতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করেো হামলাই এই আক্রমণের লক্ষ্য ছিল বলে মনে করা হলেও, ওই রাতে আল ধাফরা ঘাঁটিতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমানগুলি থাকাটা ঘটনাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। এক মার্কিন সেনা মেজর বলেছেন, বেশ কয়েক মিনিটের জন্য ওই বিমানঘাঁটিতে সতর্কতা চরম জারি করা হয়েছিল। সেই কয়েক মুহূর্ত বেশ চাপা উত্তেজনা ছিল সকলের মধ্যে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জলে পড়েছে জানার পর অল ক্লিয়ার ঘোষণা করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, মাথায় রাখতে হবে আল-ধাফরা অস্থায়ীভাবে ভারতীয় বায়ুসেনার পাঁচটি যুদ্ধবিমানের অস্থায়ী আবাসস্থল ছিল। কাজেই এতে ভারতও ক্ষতিগ্রস্ত হত।

প্রসঙ্গত মার্কিন-ইরান উত্তেজনায় ভারত কারোর পক্ষ নেবে না বলে ঘোষণা করেছে। এমনিতে ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক এই মুহূর্তে দারুণ জায়গায় থাকলেও ইরান প্রশ্নেও ভারতকে একই নৌকায় চায় ট্রাম্প প্রশাসন।