গত ২৫ মে মার্কিন মুলুকের মিনিয়াপোলিয়সে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার পর থেকেই ফুঁসছে মার্কিন মুলুক। দেশে জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ, আন্দোলন। ক্রমেই সেই আন্দোলন হিংসাত্মক হয়ে উঠছে। ভাঙচুক, মারামারির খবর মিলছে আমেরিকার নানা প্রান্ত থেকে। বাদ যাচ্ছে না গির্জাও। হোয়াইট হাউসের সামনেও জড়ো হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। সেনা নামিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সারাজীবন লড়াই করে যাওয়া মহাত্মা গান্ধীকেও বাদ দিলেন না আন্দোলনকারীরা। ভাঙচুর চালান হল তাঁর মূর্তিতেও।

 

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় দূতাবাসের সামনে অবস্থিত গান্ধী মূর্তিতে কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি ভাঙচুর চালিয়েছে। এই ঘটনার কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রশাসন। দ্রুত জাতির জনকের মূর্তি সারিয়ে ফেলার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ইউনাইটেড স্টেটস পার্ক পুলিশ। 

প্রশাসনের তরফে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে, ২ থেকে ৩ জুনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।মূর্তি ভাঙার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন এদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেন জাস্টার।  

১৯৬৯ সালে মার্টিন লুথার কিং-এর মৃত্যুর পর বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিল আমেরিকা। তারপর এত বছর পার করে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমেছেন মার্কিন জনতা। আর তাদের বিক্ষোভের পথ যে একেবারেই অহিংস নয়, পুরোপুরি সহিংস, তা বোঝাতেই যেন মহাত্মা গান্ধীর মূর্তিকে বেছেন নিলেন আন্দোলনকারীরা।

গত কয়েকদিন আগে প্রাক্তন বাস্কেটবল খেলোয়াড় কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে গলায় হাঁচু চেপে শ্বাররোধ করে হত্যা করে ডেরেক শভিন নামে এক পুলিশকর্মী। বিশ্বজুড়ে সেই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই মিনিয়াপোলিসে কার্যত আগুন জ্বলছে। বিক্ষোভের আঁচে জ্বলছে আমেরিকার অন্যান্য শহরও। শভিনকে গ্রেফতার করেও পরিস্থিতি সালমালো যায়নি। সম্প্রতি ফ্লয়েডের অটোপসি রিপোর্টেও জানান হয়েছে, বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করার কারণেই দেশে অক্সিজেনের পরিবহন কমে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশে যখন আগুন জ্বলছে তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের একের পর এক মন্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে দিয়েছে। এমনকি বিক্ষোভ থামাতে ট্রাম্প আন্দোলনকারীদের গায়ে হিংস্র কুকুর ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলেন। বিক্ষোভ থামাতে সেনা নামানোরও হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।  যা নিয়ে সামলোচনার ঢেউ ওঠে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে মুখ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন হিউন্টন সিটি পুলিশের এক আধিকারিক। তবে পরিস্থিতি সামলাতে বুধবার খানিকটা ঢোক গিলতে বাধ্য হন ট্রাম্প। জানান, মার্কিন নাগরিকদের উপর সেনাবাহিনী তিনি ব্যবহার করবেন না।