জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরাসরি সামিল না হলেও নিজের অজান্তেই জড়িয়ে গেলেন আমেরিকার বর্ণবিদ্বেষ বিরোধী আন্দোলনে। আর সুদূর মার্কিল মুলুকেও রেখলেন ভারতীয় সৌভাতৃত্ববোধের ছাপ। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কন ব্যবসায়ী। গত ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওয়াসিংটন ডিসির বাসিন্দা রাহুল দুবে। সোমবার পুলিশের তাড়া খাওয়া প্রতিবাদের জন্য খুলে দিয়েছিলেন নিজের বাড়ির দরজা। তার তাতেই সেদেশের কৃষ্ণাঙ্গ মানুষের কাছে তিনি রীতিমত 'হিরো' হয়ে গেছেন। 

রাহুল দুবের কথায় সেই রাতে প্রায় ৭০ জন প্রতিবাদী তাঁর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। এত লোকের তুলনায় তাঁর বাড়িটি নিতান্তই ছোট। তাই তিনি তাঁর ছেলের ঘরটিও ছেড়ে দিয়েছিলেন প্রতিবাদীদের থাকার জন্য। তাঁর বাড়িতে আসা প্রতিবাদীরা অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বাথটবে। কিন্তু তাতেও তাঁদের কোনও অসন্তোষ ছিল না। সামান্য আশ্রয়টুকু পেয়েই তাঁরা খুশি হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

কেরলে হাতির মৃত্যু 'পরিকল্পিত খুন' বললেন রতন টাটা, হিংসাত্মক জেলা মালপ্পুরম বলেন মানেকা গান্ধী ...

স্থানীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাহুল জানিয়েছেন, রাত তখন সাড়ে আটটা হবে। নিজের বাড়িতেই ছিলেন তিনি। সেই সময় বাইরে দেখেন গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। সেই সময় পুলিশের তাড়া খেয়ে এক দল প্রতিবাদী তাঁর বাড়িতে আশ্রয় চায়। দ্বিতীয়বার চিন্তা ভাবনা না করেই তিনি দরজা খুলে দেন তাঁদের জন্য। সকাল ৬টায় কার্ফু উঠে যাওযা পর্যন্ত ৭০ জনের প্রতিবাদীদের দলটি তাঁর বাড়িতে ছিল। 

পাক জঙ্গি 'ফৌজিভাই'কে শেষ করল ভারতীয় জওয়ানরা, নাইকুর পর আবারও সাফল্য এল ...

শুধু প্রতিবাদীদের আশ্রয় দিয়েও দায় সারেননি রাহুল। স্থানীয়দের কথায় তিনি তাঁদের জন্য দুধ ও জলের ব্যবস্থাও করেছিলেন সেই রাতে। কার্ফু আমান্য করে রাস্তায় বার হওয়ার দরুন প্রতিবাদীদের তাড়া করেছিল পুলিশ। পিপার স্প্রের কারণে অনেকেরই চোখ আর মুখ জ্বালা করেছিল। সেরাতে আক্রান্তদের পরিচর্যারও ব্যবস্থা করেছিলেন রাহুল। 

অভিনব মাস্ক তৈরি ব্যাংককের বিউটি ক্লিনিকে, ব্যবহারে অটুট থাকবে সৌন্দর্য
শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর থেকেই প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ এলাকা। সমস্ত বড় শহরেও চলছে প্রতিবাদ। 'কালো মানুষদেরও জীবনের মূল্য রয়েছে'- এই নামেই প্রতিবাদে সামিল হয়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। তাঁদের এক প্রতিবাদ সোশ্যাল মিডিয়ায় রাহুলকে ধন্যবাদ জানিয়ে লিখেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিতে যেতে তিনি তাঁদের অনেক সাহায্য করেছেন। তাঁকে 'হিরো'র তকমাও দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু রাহুল সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এমন কোনও বিশেষ কাজ করেননি। শুধু কতগুলি মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।