করোনা সংক্রমণে বিশ্বের মধ্যে এখনও এক নম্বরে রয়েছে আমেরিকা। আর এই লকডাউন পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশের নানা প্রান্তে লকডাউন জারি করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। যার ধাক্কা এসে লেগেছে মার্কিন অর্থনীতিতে। মন্দার কবলে পড়ে চাইকরি খুইয়েছেন ৪০ লক্ষেরও বেশি আমেরিকান নাগরিক। তাই দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে এবার মার্কিন ভিসায় কোপ দিল ট্রাম্প প্রশাসন।

দেশএর ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি আনা হচ্ছে তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই মত চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত আর কোনও রকম এইচ ১ বি, এইচ ৪, এল ১ এবং জে ১ ভিসা দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নিল ট্রাম্প প্রশাসন।  ভারতীয় সময় সোমবার গভীর রাতে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট প্রশাসনিক ডিক্রি-বলে ভিসায় রাশ টানার সিদ্ধান্ত সাময়িক ভাবে বলবৎ করেছেন। এই বছরের শেষ পর্যন্ত আর কোনও ওয়র্ক ভিসা দেওয়া হবে না। এর ফলে আমেরিকাব নাগরিকদের জন্য ৫ লক্ষ ২৫ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।  

বর্তমানে এইচ-১ বি, এইচ ৪, এল-১ এবং জে ১— এই চার ধরনের ভিসার ক্ষেত্রে কোপ পড়লেও ভবিষ্যতে এইচ ১ বি-র ক্ষেত্রে লটারির বদলে যোগ্যতামানে জোর দেওা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে মার্কিন ভিসা বাতিলের ফলে সবচেয়ে বেসি ক্ষতি হতে চলেছে  ভারতীয়দেরই। যদিও এই ভিসা বাতিলের জেরে যারা ওয়ার্ক ভিসায় কাজ করছেন তাদের উপরে কোনও প্রভাব পড়বে না বলেই দাবি করা হচ্ছে ৷

আমেরিকায় কাজ করার জন্য  যে ভিসা দেওয়া হয় তাকে এইচ-১ বি ভিসা বলা হয়ে থাকে ৷ একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই ভিসা জারি করা হয়ে থাকে ৷ এইচ-১ বি ভিসা সাধারণত  ৩ বছরের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে যা পরে ৬ বছর পর্যন্ত অধিকতম বাড়ানো যেতে পারে ৷ এই ভিসা শেষ হওয়ার পর আমেরিকার নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে হয় ৷ ভারতে বিপুল সংখ্যাক আইটি কমর্রতরা এই ভিসায় আমেরিকায় কাজ করে থাকেন ৷ তাই ভিসা বাতিলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হতে চলেছে ভারতীয়দের ৷ 

তবে এইচ-১ বি ভিসায় যাঁরা বর্তমানে আমেরিকায় রয়েছেন, নতুন নীতিতে তাঁদের উপরে কোনও আঁচ পড়বে না বলেই দাবি করা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন দফতরের পরিসংখ্যানই বলছে, ২০১৯ অর্থবর্ষে ১ লক্ষ ৩৩ হাজার বিদেশিকে এইচ-১ বি ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। যাঁদের একটা বড় অংশ চিন ও ভারতের দক্ষ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। এরআগে করোনা মহামারির শুরুতেই আমেরিকায় ঢোকার জন্য যাবতীয় অভিবাসন নীতি বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করিছিলেন  ট্রাম্প। 

তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ নেওয়ায় অনেকেই সমালোচনা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশিদের অভিবাসন সীমাবদ্ধ করার জন্য ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের লক্ষ্য বাস্তবায়িত করতে মহামারিকে ব্যবহার করছেন। এছাড়া আমেরিকার অনেক ব্যবসায়িক গোষ্ঠীও অস্থায়ী ভিসা নিষেধাজ্ঞার এই ঘোষণার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে।