মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এইবার ভারতীয়-আমেরিকানদের ভোট টানার জন্য রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্য়াটদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। নানাভাবেই ভারতীয়দের কাছে কারা তা প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে। এরইমধ্যে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে কাশ্মীর সমস্যা। আর এই নিয়ে একেবারে মিথ্যা প্রচার শুরু করে দিয়েছে ট্রাম্প ক্যাম্প।

ট্রাম্প-পন্থী মার্কিন দেশে বসবাসকারী ভারতীয়রা দাবি করছেন, কাশ্মীর ইস্যুতে কখনও হস্তক্ষেপ করেননি ট্রাম্প। সেইসঙ্গে চিনের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি ভারতের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্প নিজেও দাবি করেছিলেন ভারতীয়-মার্কিনি জনগন তাঁর সঙ্গেই রয়েছেন।

এটা ঠিক যে, ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি কাশ্মীর বিষয়ে এখনও হস্তক্ষেপ করেনি। তবে ট্রাম্প নিজেই বেশ কয়েকবার কাশ্মীর সমস্যার সমাধানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতেই ডাভোস-এ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দাঁড়িয়ে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন ইমরান খান। ঠিক তারপরই ট্রাম্প জানিয়েছিলেন তিনি খুব নিবিড়ভাবে কাশ্মীর সমস্যার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং এই বিষয়ে মধ্যস্থতা করতে চান। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতে নাগরিক সংবর্ধনা নিতে এসেও নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর আরও একবার ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে কাশ্মীর বিষয়ে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

শুধু, এই বছরই নয়, ট্রাম্প এই মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রথম দিয়েছিলেন ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। ঠিক তার আগেই পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মার্কিন সফরে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার পরই ট্রাম্প বলেছিলেন ইমরান খান এবং নরেন্দ্র মোদী দুজনেই খুব ভালো মানুষ, তাঁর ভালো বন্ধু। তাঁদের এক টেবিলে বসতে অস্বস্তি হলে তিনি অবশ্যই মধ্যস্থতা করবেন। তারপর ২০১৯ সালের অগাস্ট মাসে ভারত ৩৭০ ধারা বিলোপ করার পরও একই প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পাকিস্তান এই বিষয়ে বরাবরই আমেরিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। কাশ্মীর সমস্যাকে তারা দ্বিপাক্ষিক সমস্যার বদলে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসাবে তুলে ধরতে চায়। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছিলেন পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর মধ্যস্থতার বিষয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু, যতবারই ট্রাম্প এই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, ততবারই ভারত সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক, কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চাই না।

কাজেই কাশ্মীর বিষয়ে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করেননি, এই দাবিটি ডাহা মিথ্য়া। বরং বলা উচিত হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পাননি। আর চিনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর পদক্ষেপের পিছনে রয়েছে একান্ত মার্কিন স্বার্থ। চিনের সঙ্গে তাঁদের বানিজ্য উত্তেজনা তৈরি না হলে মার্কিন প্রশাসনকে এই ভূমিকায় দেখা যেত কিনা, তাই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কুটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।