পূর্ব লাদাখের ভারত-চিন সীমান্তে আগ্রাসনের পর ক্রমশ বিশ্বে একঘরে হচ্ছে চিন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবশ্য তারও আগে থেকে বেজিং-এর দ্বন্দ্ব চলছে। এর মূল কারণ বাণিজ্য প্রতিযোগিতা। এতদিন চিনের বিরুদ্ধে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি, মার্কিন মুলুকে চিনা বিমান অবতরণে নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। কিন্তু, এবার তারা হাঁটতে চলেছে ভারতের নরেন্দ্র মোদীর দেখানো পথে।

সোমবার রাতে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ভারতের পর আমেরিকাও জনপ্রিয় মোবাইল অ্যাপ টিকটক-সহ বেশ কয়েকটি চিনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাত্কারে পম্পেও জানান, বিষয়টি এখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে তোলা হচ্ছে না, তবে এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবশ্যই ভাবনা চিন্তা রয়েছে। বিষয়টি তারা বিবেচনা করে দেখছে।

প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই চিনা সামরিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবে ভারতে চালু থাকা ৫৯টি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ভারতে বন্ধ হয়ে গিয়েছে টিকটক, হ্যালো, শেয়ারইট, ইউসি ব্রাউজার, ক্যাম স্ক্যানার-এর মতো জনপ্রিয় চিনা অ্যাপ। এই অ্যাপগুলি ভারতে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। কিন্তু এই প্রত্যেকটি অ্যাপের বিরুদ্ধেই তথ্য পাচার ও ব্যবহারকারীদের গোপনিয়তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ ছিল। এই অ্যাপগুলির মাধ্যমেই বেজিং নজরদারি চালায় বলে বিশ্বের অনেক দেশই মনে করে।

এর আগে বৃহত্তম চিনা প্রযুক্তি সংস্থা হুয়ায়েই-এর বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছিলেন পম্পেও। জানিয়েছিলেন, হুয়ায়েই একটি অস্বচ্ছ সংস্থা। তারা পুরোপুরি চিনা কমিউনিস্ট সরকারে অঙ্গুলি হেলনে চলে। চিনা কমিউনিস্ট পার্টির চাহিদা মতো বিভিন্ন তথ্য পাচার করে তারা।    

চিনের সরকারের কাছে সত্যিই তারা তথ্য পাচার করে কিনা, তা তদন্ত সাপেক্ষ। কিন্তু এই চিনা অ্যাপগুলি চিনের অর্থনৈতিক উন্নতির একটা বড় অংশ, তা বলাই বাহুল্য। একের পর এক দেশে এই অ্যাপগুলি বাতিল হতে থাকলে তাদের অর্থনীতির টাইটানিক যে ডুবতে শুরু করবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।