মঙ্গলবার থেকে টোকিও-তে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ক একটি আলোচনা শুরু হয়েছে। এই চার দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও জোট গঠন না করলেও এই চারদেশের জোট বেসরকারিভাবে কোয়াড নামে পরিচিত। লক্ষ্য, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান শক্তি প্রতিরোধ করা। চারটি দেশই চিনের সঙ্গে হয় সীমান্ত নিয়ে কিংবা বাণিজ্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। কাজেই এই চার দেশের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের আলোচনায় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

চিন স্বাভাবিকভাবেই  'কোয়াড'কে হুমকি হিসাবে দেখছে। বেজিং-এর আশঙ্কা, এই চার দেশের ফোরাম ধীরে ধীরে এশিয়ার 'ন্যাটো' হয়ে উঠতে পরে। তাদের উদ্বেগ খুব একটা অনাবশ্য়ক নয়। মার্কিন বিদেশ দপ্তর থেকে আভাস দেওয়া হয়েছে, চার দেশের মধ্যের এই অনানুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এশিয়ার একটি ন্যাটো-ধাঁচের জোটের সূচনা হিসাবে ধরা যেতে পারে। এদিনের বৈঠকে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পেও সরাসরি চিনের নাম করে বলেন, চিনা 'শোষণ, দুর্নীতি ও জোরজবরদস্তি' ঠেকাতে চার কোয়াড সদস্যদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে হবে। কিন্তু সত্যিই কি এশিয়াতে ন্যাটোর মতো একটি প্রতিরক্ষা জোট গড়লে সেই জোট চিনকে আটকাতে পারবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর, বিশ্বে চিনই সামরিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে। সিপ্রির সামরিক ব্যয়ের তথ্য পরিসংখ্যান অনুসারে ২০২০ সালে বেজিং-এর সামরিক বাজেট ছিল প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার। গত কয়েক বছরে চিন, বিমান বাহক, স্টেলথ বিমান এবং আধুনিক রণতরী-সহ তাদের সামরিক বাহিনীর ব্যাপক আধুনিকীকরণ শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে ভারত, জাপান বা অস্ট্রেলিয়াও সামরিক বাজেট বাড়ালেও, হিসাব বলছে এই তিন দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট যোগ করলেও তা চিনকে পাল্লা দিতে পারবে না। তবে সমীকরণটা পাল্টে দিতে পারে আমেরিকার উপস্থিতি।