পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাত মেলাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ওসামা বিন লাদেন। দুজনেরই পরণে দামি স্যুট মুখে হাসি। এমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি কি আদৌ সত্যি না ভুয়ো? 

পাশাপাশি দাঁড়িয়ে হাসিমুখে হাত মেলাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ৯/১১ হামলার মূল চক্রী তথা একসময়ে বিশ্বব্যাপী ত্রাস সৃষ্টি করা আল-কায়দার সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর প্রাক্তন প্রধান ওসামা বিন লাদেন। দুজনের পরণেই দামি স্যুট। এমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ছবির তলায় আবার ট্রাম্পের বিবৃতি হিসাবে লেখা, 'আমি ওসামা বিন লাদেনকে চিনতাম। মানুষ তাকে ভালবাসত। তিনি এক মহান ব্যক্তি ছিলেন, যোগ্য কারণে তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন'।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এমন মুচমুচে ছবি স্বাভাবিকভাবেই একেবারে করোনাভাইরাসের গতিতে ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বহু মানুষ এই ছবি শেয়ারও করছেন। এই সময় দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের পক্ষে লাদেনের সঙ্গে ছবি তোলাটা একেবারেই অসম্ভব। কিন্তু ছবিটি ট্রাম্পের অনেক অল্প বয়সের। আর সকলেই জানেন, গত শতাব্দীর আটের দশকে একটা বড় সময় ধরে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ার জন্য তালিবান তথা আল কায়দা গোষ্ঠীকে প্রত্যক্ষভাবে মদত দিয়েছিল মার্কিন গুপ্তচর বাহিনী সিআইএ। সেই সময় কখনও কি ট্রাম্প টাওয়ারে বা অন্য কোথাও দেখা হয়েছিল এই দুই বর্ণময় চরিত্রের? আফগান পাহাড়ের গুহায় তাঁর শিবির ছেড়ে স্যুট পরে ট্রাম্পের সঙ্গে পার্টি করেছিলেন লাদেন?

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে ভাইরাল হওয়া ছবিটির ভিত্তিতে বিপরীত তথ্যানুসন্ধান চালানো হয়। তাতে দেখা গিয়েছে, ছবিটি আদতে 'মরফড' বা প্রযুক্তির সাহায্যে ছবিটি বিকৃত করা হয়েছে। মূল ছবি ১৯৮৭ সালে নিউ ইয়র্ক শহরে তোলা হয়েছিল। আর সেই ছবিতে আল-কায়েদা'র প্রাক্তন প্রধানের কোনও চিহ্ন ছিল না। ছবিটিতে প্রখ্যাত মার্কিন প্রকাশক এসআই নিউ হাউস জুনিয়রের সঙ্গে ট্রাম্পকে হাত মেলাতে দেখা দিয়েছে।

বিশ্বখ্যাত ছবি সংবাদ সংস্থা 'গেটি ইমেজেস' ১৯৮৭ সালেই ছবিটি পোস্ট করেছিল এবং ক্যাপশনে লিখেছিল, 'ট্রাম্প বুক পার্টিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প'। 'গেটি ইমেজেস'-এর ওয়েবসাইটে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নিউ ইয়র্ক শহরে ট্রাম্প টাওয়ারে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি 'বুক পার্টি'র আয়োজন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানেই এসেছিলেন মার্কিন প্রকাশক এসআই নিউহাউস। সেই সময়ই এই ছবিটি তোলা হয়েছিল। পরে এই ছবিটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ করা হয়েছে।

ভাইরাল ছবিটিতে ট্রাম্পের মুখের জায়গায় লাদেনের মুখ এবং নিউহাউসের মুখের জায়গায় ট্রাম্পের নিজের মুখ বসানো হয়েছে। কাজেই ছবিটি একেবারেই ভুয়ো। সেই সঙ্গে বহু খুঁজেও ট্রাম্প কখনও লাদেনকে 'মহান ব্যক্তি' বলে অভিহিত করেছেন বা 'যোগ্য কারণে' প্রাণ দিয়েছেন বলে, পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ট্রাম্প যদি কখনও এই কথা বলে থাকতেন, তাহলে নির্বাচনের সময় ডেমোক্র্য়াটকা অবশ্যই তা ব্যবহার করতেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। আর নির্বাচিত হওয়ার পর যদি এমনটা বলতেন, তাহলে গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের প্রথম পাতায় তা খবর করা হত। এমনটা কোথাও পাওয়া যায়নি। কাজেই ছবির মতো মন্তব্যটিও ভুয়ো।