রবিবারই, নদিয়ার এক জনসমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত-এর মতো রাজ্য থেকে আসা বহিরাগত এবং আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানদের জন্যই বাংলায় করোনার গ্রাফ ক্রমশ ঊর্ধ্বগামী। আর সোমবারই জানা গেল, বাংলায় নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধাসামরিক বাহিনীর অন্তত ৭১ জন জওয়ানের করোনভাইরাস পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। তবে তারপরেও পরিস্থিতি একেবারেই উদ্বেগজনক নয়, বলেই দাবি করছে বাহিনী।

জানা গিয়েছে, সংক্রামিত ৭১ জন জওয়ানের মধ্যে বেশিরভাগই সিআইএসএফ বাহিনীর সদস্য। এই বাহিনীর ৩৯ জন সদস্য বর্তমানে করোনা আক্রান্ত। এছাড়া, আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর ১২ জন সদস্য, এসএসবি-র ১০ জন, সিআরপিএফ-এর ৪ জন, এবং আইটিবিপি ও রাজ্যের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৩ জন করে সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে, এই নিয়ে আদৌ ভাবিত নয় বাহিনী। প্রথমত, আক্রান্তদের কারোরই সংক্রমণ গুরুতর নয়। বেশিরভাগই উপসর্গহীন, বা কারোর কারোর হাল্কা উপসর্গ রয়েছে। আর দ্বিতীয়ত বাহিনীর আধিকারিকরা বলছেন, সব মিলিয়ে বঙ্গ ভোটে এক লক্ষেরও বেশি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৭১ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাই পরিসংখ্যান অনুযায়ীই এখনই সতর্কতা জারির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে দাবি করছেন তাঁরা।

আইটিবিপি বাহিনীর এক কর্মকর্তা বলেছেন, গত বছর, আমরা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ব্যাটেলিয়নের সদর দফতর মিলিয়ে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ জনের কোভিড পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসছিল। এবার সেই তুলনায় অনেক কম সংখ্যক জওয়ান আক্রান্ত হচ্ছেন। যার মোকাবিলা করা সদজতর বলে মনে করছেন তাঁরা। তবে আধাসামরিক বাহিনী গুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সিআইএসএ বাহিনীকে নিয়ে। এই বাহিনীরই সবচেয়ে বেশি সদস্য করোনা আক্রান্ত। তাছাড়া, নির্বাচনী দায়িত্বের পাশাপাশি রাজ্যের ভিআইপিদের সুরক্ষার দায়িত্বেও মোতায়েন করা হয়েছে তাদের।

জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রায় ৮০ জন ভিআইপিকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে সিআইএসএফ। এক্স, ওয়াই, জেড এবং জেড + ক্যাটেগরির সুরক্ষা পাওয়া এই ভিআইপিদের কাছাকাছি থাকা মোট সিআইএসএফ কর্মীর সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০। এই জওয়ানরা ভিআইপিদের সঙ্গে সঙ্গে সভা, সমাবেশ, মিছিলের মতেো জনসমাগমে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাদের পাশাপাশি বুথের সুরক্ষা এবং অন্যান্য নির্বাচনী দায়িত্বে মোায়েন আছেন ১২,০০০ সিআইএসএফ জওয়ান। এঁদের মধ্যে ৩৯ জনের করোনা ধরা পড়ে তাকলে, বাহিনীকে অ্যাসিম্পমেটিক সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্য়াটটা আরও বেশি হতে পারে। এঁদের থেকে করোনা ছড়িয়ে পড়াটা কিন্তু মোটেই আশ্চর্যের ঘটনা হবে না। তারপরেও যদিও বাহিনীর কর্তারা বিষয়টিিকে পাত্তা দিতে নারাজ।