আবারও বিজেপিকে নিশানা করল তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে হাওড়ার ডুমুরজলার সমাবেশে রবিবার জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিল মঞ্চে উপস্থিত হেভিওয়েট নেতারা। আর সেখানেই 'ভুল ভাবে' জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের ট্যুইটার হ্যান্ডেল থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়ে জানান হয়েছে, 'আজ বাংলার দেশভক্ত মানিটে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্ব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীত ভুলভাবে গেয়ে দেশকে অপমান করেছেন। এভাবেই বিজেপি নেতাদের লোকদেখান জাতীয়তাবাদ প্রকাশ্যে আসছে । এই অপমান দেশ মেনে নেবে না!অমিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে হবে।' শুধু বার্তা দিয়েই থেকে থাকেনি তৃণমূল কংগ্রেস। একই সঙ্গে  ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেছে। যেথানে চিহ্নিত করা হয়েছে 'জনগণমন অধিনায়ক'-র কোন অংশটি ভুলভাবে গেয়েছে। 

একই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে যাঁরা প্রচার করেন তাঁরা আমাদের জাতীয় সঙ্গীতও সঠিকভাবে গাইতে পারে না। এই দলটি ভারতের সম্মান ও গর্বকে ধরে রাখার দাবি করে বলেও তিনি বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন অ্যান্টি ন্যাশানাল অ্যাক্টের অধীনে বিজেপির ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। 

শনিবার দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈশালী ডালমিয়া, রথীন চক্রবর্তী সহ একগুচ্ছ হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব। এদিন তাঁদের উপস্থিতিতে হাওড়ার ডুমুরজলায় বিজেপির জনসভা ছিল। সভায় অমিত শাহর উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি অনিবার্য কারণে সফর বাতিল করেন। কিন্তু এদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। উপস্থিতি ছিলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মত রাজ্যস্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে বেশ জমজমাট ছিল সভা। সভা শেষেই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। আর তখনই ঘটে  এই কেলেঙ্কারি। যা নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই আসরে নামে তৃণমূল কংগ্রেস।