বুধবার শীতলকুচির নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে মাথাভাঙায় যাচ্ছেন মমতা। এদিকে 'মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই না', জানালেন শীতলকুচির আনন্দ বর্মনের বাবা। মূলত এদিন নিহতদের পরিবারের পাশাপাশি তিনি যাবেন মাথাভাঙা সাব ডিভিশন হাসপাতালে। সেখানেই ভর্তি রয়েছে শীতলকুচি ঘটনায় আহতরা। 

 

 

 

আরও পড়ুন, 'মৃত্যু নিয়ে দিদির রাজনীতি ডুবিয়ে দিচ্ছে বাংলাকে', মমতার সরকারকে ধীক্কার অমিত শাহ-র 

 

চতুর্থ দফা ভোটের সকালেই শীতলকুচিতে গুলিতে মৃত্যু হয় এক নতুন ভোটেরের।  শীতলকুচির পাগলা পীরে গুলি চলে আচমকাই। সেইসময়  ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই আচমকা আনন্দ বর্মণের পিঠে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বছর ১৮-র ওই যুবককে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এরপরেই উত্তাল হয়ে ওঠে শীতলকুচি। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ঘটনার দিনই অভিযোগ করেছিল মৃত কিশোরের পরিবার। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করলেন শীতকুচিতে নিহত আনন্দ বর্মণের বাবা। মৃতের দাদা বলেছেন, 'সবই তো শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি বিজেপি প্রার্টি করি। বিজেপি করার জন্য আমার ভাই মারা গেল। এখন মুখ্যমন্ত্রী এসে আর কী করবেন।' যদিও রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, মৃত্যুর পরেও মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাতকে প্রত্যাখ্যান করার অধিকার আছে কি বর্মন পরিবারের। উল্লেখ্য যদিও আনন্দ গুলি বিদ্ধ হওয়ার পর এরপরেই ঘটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে আরও ৪ মৃত্যু।  

 

আরও পড়ুন, 'গণতন্ত্রে হিংসার জায়গা নেই-বাহিনীকে সম্মান করুন', শীতলকুচিকাণ্ডে মমতাকে নিশানা রাজ্যপালের 

 

 

এদিকে, বুধবারই শীতলকুচি কাণ্ডের পর প্রথমবার কোচবিহারে যাচ্ছেন মমতা। মূলত তিনি যাবেন মাথাভাঙা সাব ডিভিশন হাসপাতালে। সেখানেই ভর্তি রয়েছে শীতলকুচি ঘটনার আহতরা। উল্লেখ্য,চতুর্থ দফার ভোটের সকালেই রক্তাক্ত হয়েছিল  কোচবিহার। মৃত্যু হয়েছে  ৫ জনের। এদের মধ্য়ে কেন্দ্রীয়বাহিনীর গুলিতে তাঁদের মধ্য়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চতুর্থ দফা ভোটের দিন শীতলকুচির অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির পর রবিবার শীতলকুচির সেই জোড়াপাটকি গ্রামে রওনা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কিন্তু কমিশনের নিষেধাজ্ঞা জেরে শেষ অবধি মমতার শীতলকুচি সফর বাতিল হয়। তবে এবার পেরিয়ে গিয়েছে কমিশনের দেওয়া ৭২ ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা জারি। তাই এদিন কোচবিহার যাচ্ছেন মমতা।