রাত পোহালেই শনিবার রাজ্যের এক প্রান্তে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। আর একইদিনে, রাজ্যের আরেক প্রান্তে বঙ্গ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তার প্রথম জনসভাটি করবেন অল ইন্ডিয়া মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন বা এআইমিম দলের নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী হাই স্কুলের মাঠের সেই সভা থেকেই আসন্ন নির্বাচনে মিম প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারেন তিনি। জানা গিয়েছে, সেই তালিকায় চমক হিসাবে এক তৃণমূলত্যাগী নেতার নাম থাকতে পারে।

এআইমিম সূত্রে খবর, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদে অন্তত ১৩ টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে চলেছেন আসাদুদ্দিন।  শুধু তাই নয়, সাগরদিঘী বিধানসভা কেন্দ্রে নুরে মেহবুব আলমকে প্রার্থী করা হতে পারে। তিনি ছিলেন তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার মাইনরিটি সেলের কার্যকরী সভাপতি। সেই সঙ্গে সাগরদিঘি পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ। মাসখানেক আগে তিনি দল ছেড়েছিলেন। মিমের কলকাতার কার্যালয়ে গিয়ে ওয়াইসির দলের পতাকা ধরেছিলেন। এবার সাগরদীঘি থেকে তাকেই দাঁড় করাতে চলেছেন আসাউদ্দিন ওআইসি, বলেই দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যাবেলাই হায়দরাবাদ থেকে বিমানে কলকাতায় এসেছেন আসাউদ্দিন। দমদম এয়ারপোর্টে তাঁর দলের বহু কর্মী-সমর্থকরা জড়ো হয়েছিলেন। মিম প্রধানকে দেখা যায় দলীয় সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়তে। সেখান থেকে শহরের এক হোটেলে গিয়েছেন তিনি। সেখানে রাত্রে থাকবেন। সেখানেই মিমের তরফ থেকে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা শীর্ষনেতাদের সঙ্গে  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল নিয়ে রুদ্ধদ্বার আলোচনা হবে বলে দাবি করেছে একটি সূত্র।

বঙ্গে প্রথমে আব্বাস সিদ্দিকীর আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করতে চেয়েছিলেন আসাদুদ্দিন। কিন্তু ফুরফুরা শরিফের ভাইজান তাঁকে ফিরিয়ে দেন। তারপরও, বঙ্গে দলের বিস্তার করতে চাইছেন তিনি। তবে অবিজেপি প্রত্যেকটি দলেরই অভিযোগ তিনি আসলে বিজেপির হয়ে রাজ্যে রাজ্যে 'ভোটকাটুয়া'র কাজ করেন। সেই অভিযোগ তিনি না মানলেও, বাস্তবে মুর্শিদাবাদে তিনি প্রার্থী দিলে ক্ষতি হতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কে।