শামিকা মাইতি, প্রতিনিধি-  আজ, পঞ্চম দফার ভোটে পশ্চিমবঙ্গে ৪৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে।  জাত-ধর্ম ভিত্তিক হিসাবে এই কেন্দ্রগুলিতে মুসলিম ভোটার ১৮ শতাংশের মতো, তফসিলি জাতি ২৮ শতাংশ, তফসিলি উপজাতি ৮ শতাংশ। প্রায় ১২টি আসনে ২০ শতাংশের মতো মতুয়া ভোটার রয়েছে।  তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কের মোকাবিলা করতে  বিজেপি  পাখির চোখ করেছে মতুয়া, রাজবংশী ও চা শ্রমিকদের ভোটকে। 

আৎও পড়ুন- শীতলকুচির অডিও ক্লিপ, এবার বিজেপির বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে তৃণমূল

পঞ্চম দফায় যে ৪৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হচ্ছে তার মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় রয়েছে ৭টি আসন, কালিম্পংয়ের একটি, দার্জিলিংয়ের ৫টি, নদিয়ার ৮টি, উত্তর ২৪ পরগনার ১৬টি এবং পূর্ব বর্ধমানে ৮টি। ২০১৬ সালের হিসাবে এই ৪৫টি আসনের মধ্যে ৩১টিতে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের হিসাবে ২৩টিতে এগিয়ে রয়েছে তারা।  সেখানে বিজেপির গ্রাফ অনেকটাই উর্ধ্বমুখী। ২০১৬ সালে ৪৫টার মধ্যে মাত্র একটি আসনে জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু লোকসভা ভোটের হিসাবে ২২টিতে এগিয়ে ছিল তারা।  সব মিলিয়ে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে এই কেন্দ্রগুলিতে বিজেপির গড় ভোট যেখানে ছিল ৪৫ শতাংশের মতো, তৃণমূলের সেখানে ৪১.৫ শতাংশ।

 

অন্য দলগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। ২০১৬ সালে তারা ৩টি আসন জিতেছিল। কিন্তু ২০১৯-এ কোথাও তেমন ভাল ফল করতে পারেনি। একই অবস্থা বামেদের। ২০১৬ সালে সিপিআই (এম) ৫টা আসন পেলেও ২০১৯-এ কোথাও ‘লিড’ দিতে পারেনি। কংগ্রেসের ক্ষেত্রেও ছবিটা  হতাশাজনক। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে ৫টি আসনে কংগ্রেস জিতেছিল যেখানে গত লোকসভা ভোটে একটি আসনেও ‘লিডে’ নেই তারা।

এই প্রেক্ষিতে ভোট হচ্ছে মূলত তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। মুসলিম ভোট এককাট্টা করার পাশাপাশি পঞ্চম দফার ভোটে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি হল তাদের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তার সামাল দেওয়া। সেই জন্য যে যে আসনে বিধায়কদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল, সেগুলিতে নতুন মুখ দাঁড় করিয়েছেন মমতা। দার্জিলিংয়ের ৫টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৩টিতে প্রার্থী দিয়েছে এবং তিনটিতেই নতুন মুখ। নদিয়া জেলায় বরাবরই গেরুয়া শিবিরের ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে।

আরও পড়ুন- ভোটের মাঝে সীমান্তে অবৈধ টাকার লেনদেন রুখতে নাকা চেকিং, মুর্শিদাবাদে অভিযান অফিসারদের

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের হিসাবে পঞ্চম দফায় যে ক’টি আসনে ভোট হচ্ছে তার প্রতিটিতেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। তৃণমূল এই ৮টি আসনের মধ্যে ৫টিতে নতুন প্রার্থী দিয়েছে। আবার উত্তর ২৪ পরগনায় যে ১৮টি কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে তার মধ্যে ১৬টিতে লোকসভা ভোটেও এগিয়েছিল তৃণমূল। তাই এখানে অধিকাংশ কেন্দ্রেই প্রার্থী বদল করা হয়নি। মাত্র দু’টি কেন্দ্রে নতুন মুখ তৃণমূলের। পূর্ব বর্ধমানে ৮টার মধ্যে ৭টা আসনে প্রার্থী বদলে নতুন মুখ এনেছেন মমতা। সব মিলিয়ে ৪৫টার মধ্যে ২০টাতে প্রার্থী বদল করা হয়েছে তৃণমূলের ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি এফেক্ট’ সামলাতে।

 

এছাড়া, পাহাড়ে গোর্খা ভোট কব্জা করতে  গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে দলে টেনেছে তৃণমূল। দার্জিলিংয়ে দু’টি আসন তাদের ছেড়ে দিয়েছে তারা। কালিম্পংয়ের একমাত্র আসনটিও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ছেড়ে দিয়েছে তৃণমূল। উল্লেখ্য শাসকদলের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রধান বিমল গুরুং ২ বছরেরও বেশি সময় পাহাড়ে আত্মগোপন করে ছিলেন। ভোটের প্রাক্কালে বিমল প্রকাশ্যে এসে তৃণমূলকে সমর্থন করেন। প্রতিদান স্বরূপ তার পরে পরেই বিমলের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো ছিল, তুলে নেয় তৃণমূলের সরকার।

এক্ষেত্রে বিজেপির আশা-ভরসা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার প্রতিদ্বন্দ্বী দল গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট। পূর্ব বর্ধমানে আবার বিজেপির অন্য বাজি। এই এলাকার এক তৃণমূল সাংসদ ও দুই বিধায়ক বহু কর্মী-সমর্থক নিয়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই দলবদলুরা রাজনৈতিক সমীকরণ ঘেঁটে দেবেন বলে আশা করছে বিজেপি। ভুললে চলবে না বাম-কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সংযুক্ত মোর্চার কথা।  জিততে পারুক বা না-পারুক ভোট কাটাকুটির খেলায় অনেক আসনে ঘুড়ির সুতো থাকছে তাদেরই হাতে।