মাস দুই পর ফের ফিরে এল 'দাদার অনুগামী' পোস্টার-ব্যানার। এতদিন দাদার সঙ্গে আছি, এই বার্তাই দিতেন দাদার অনুগামীরা। 'দাদা' তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যাওয়ার পর, মঙ্গল-বুধবার ফের বাঁকুড়ায় দাদার অনুগামী পোস্টার দেখা গেল। মঙ্গলবার বড়জোড়ায়, বুধবার জেলার বিভিন্ন প্রান্তেই এই পোস্টার দেখা গেল। এবার শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দিয়ে বার্তা, 'বাংলার ছেলে কে বাঙালিরা বাংলার সিংহাসনে দেখতে চায়'। আর এই পোস্টার-ব্যানার কারা দিয়েছে, সেই নিয়ে দ্বন্দ্ব বেঁধেছে তৃণমূল কংগ্রেস-বিজেপির মধ্য়ে।

বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর, পাত্রসায়ের, সিমলাপাল ও ধলডাঙ্গা এলাকায় দেখা যায় 'দাদার অনুগামী' পোস্টার ব্যানার। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও ছিল নরেন্দ্র মোদী এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ছবি। শুভেন্দু অধিকারীকে 'বাংলার সিংহাসনে দেখতে চাওয়া ছাড়াও, জঙ্গলমহলের ৬১টি আসনেই 'দাদার অনুমোদিত' প্রার্থীদের চাই বলেও দাবি করা হয়েছে। পোস্টার-ব্যানারে বিজেপির পদ্ম চিহ্নও রয়েছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হল, এর আগের দাদার অনুগামী পোস্টার-ব্যানারে সবুজ রঙই বেশি থাকত, এইবারে গেরুয়া রঙেরই প্রাধান্য।

কিন্তু, কারা দিয়েছে এই পোস্টার-ব্যানার? এই প্রশ্নে বাঁকুড়া জেলা জুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে বিজেপি তৃনমুলের তরজা। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, সারা বাংলার বিভিন্ন স্থানের মতো এটিও নব্য ও আদি বিজেপির দ্বন্দ্ব। অন্যদিকে, বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এইসব তৃণমূলের চক্রান্ত। এই পোস্টার-ব্যানার আসলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে। গেরুয়া শিবিরে ভাঙন ধরাতেই এই ঘৃণ্য পন্থা নিয়েছে তাঁরা। তবে, দাদা অর্থাৎ শুভেন্দু অধিকারী এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও করা যায়নি।

এদিনই রাজ্য বিজেপির কোর কমিটির বৈঠক ছিল। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দুই দফার জন্য প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করে হয়েছে। শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে।