আবারও একটি সমস্যায় পড়তে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পদক্ষেপ করতে উদ্যোগ নিয়েছে। বাড়ি বাড়ি বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা তিনি জনসভায় ঘোষণা করেছেন কিনা তা জানতে উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে এই মর্মে একটি রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। নির্বাচন কনমিশনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া  হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন কোনও জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কিনা। বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরুলিয়ার সমস্ত জনসভার আনকাট ও আনএডিট ভিডিওগ্রাফিও চেয়ে পাঠিয়েছে। 

সোমবার থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়েছেন। গতকালই পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ও বাঘমুণ্ডিতে দুটি জনসভা করেন তিনি। বাঘমুণ্ডির জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন তাঁর সরকার সকলের কাছে বিনামূল্য রেশন পৌঁছে দিচ্ছে। ২০২১ সালে ক্ষমতায় এলে তিনি প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। সাধারণ মানুষকে রেশন দোকানে গিয়ে চাল, ডাল সংগ্রহ করতে হবে না। রাজ্যের বাসিন্দাদের বাড়ির দরজায় পৌঁছে যাবে রেশন।মঙ্গলবার শালতোড়া বিধানসভা কেন্দ্রেও মমতা বাড়ি বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় বিষয়টি কমিশনের নজর এড়িয়ে যায়নি।

যদিও তৃণমূল সূত্রের খবর বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের ইস্তেহার প্রকাশ পাবে। আর সেই ইস্তেহারেও দুয়ারে রেশন প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে। জনসভাগুলি থেকে দলনেত্রী সেই বার্তাই দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের কথা মুখ্যমন্ত্রী বা যে কোনও প্রশাসনিক পদে থেকে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে কোনও প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে পারে বলেও মনে করতে পারে কমিশন। তেমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচনি নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়ে গেছে বলেও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 


অন্যদিকে আগে থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মিথ্যা হলফনামা দাখিল করেছেন। শুভেন্দুর অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ছটি ফৌজদারী মামলা রয়েছে। সেগুলির উল্লেখ না করেই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এবার মুখ্যমন্ত্রীর কোনও আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেছেন কিনা তা দেখতে নিজের উদ্যোগেই পদক্ষেপ করছে কমিশন।