বাংলায় এসে চুঁচুড়ার সভা থেকে 'হর ঘর জল' প্রকল্পের রূপায়ণে রাজ্যের ধীর গতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী। কেন্দ্রের 'আয়ুষ্মান ভারত' বা 'প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি' গ্রহণ না করে 'স্বাস্থ্যসাথী' এবং 'কৃষকবন্ধু' প্রকল্প চালু করেছেন, তেমনই এই ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের 'হর ঘর জল' বাংলায় হয়েছে 'জলস্বপ্ন' প্রকল্প।

এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী চুঁচুড়ার সভা থেকে অভিযোগ করেন, হর ঘর জল প্রকল্পে রাজ্যকে এখনও পর্যন্ত ১৭০০ কোটি টাকার তহবিল দেওয়া হয়েছে। অথচ, বাংলার সরকার এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬০৯ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে। বাকি টাকার হদিশ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বস্তুত, ২০১৯ সালের স্বাধীনতা দিবসের দিন হর ঘর জল প্রকল্প চালু করেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের মধ্যে দেশের ৫ কোটি গ্রামীন পরিবারে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত জল পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রকল্পটিতে, কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারের সমানভাবে খরচ করার কথা। ২০১৯ সালেরই সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম কেন্দ্রীয় প্রকল্প হিসাবে হর ঘর জল প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল তারা।               

তবে প্রথম থেকেই বারেবারে রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রকল্পের রূপায়ণে ধীর গতির অভিযোগ করেছে কেন্দ্র। জল শক্তি মন্ত্রক থেকে বারেবারে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে পাঠানো হয়েছে বিশেষজ্ঞ দলও। এরই মধ্যে ২০২০ সালের জুলাই মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে জলস্বপ্ন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন।

এই প্রকল্পের আওতায় হর ঘর জল-এর মতোই বাংলার গ্রামীন এলাকার ঘরে ঘরে পাইপলাইনে পরিস্রুত জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ৫৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রকল্পে বাংলার ২ কোটি পরিবারের উপকৃত হওয়ার কথা। প্রকল্পটির রূপায়ণের কাজ এই মুহূর্তে কোথায় রয়েছে, সেই সম্পর্কে বিশদ তথ্য নেই। তবে, তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটি শুরুর ২০ দিনের মধ্যেই ৩৩ লক্ষ বাড়িতে এই প্রকল্প রূপায়িত হয়েছিল। সব মিলিয়ে ভোটের আগে আরও এক প্রকল্প নিয়ে শুরু হল কেন্দ্র-রাজ্য তরজা।