সময়় গড়িয়ে চলেছে। কিন্তু, নিমতিতা রেলস্টেশনে বিস্ফোরণকাণ্ডের রহস্যের সমাধান তো দূর ক্রমেই জটিলতা বেড়ে চলেছে। মঙ্গলবার এলাকা পরিদর্শন করেন এডিজি সিআইডি অনুজ শর্মা। সঙ্গে সিআইডির অন্যান্য আধিকারিকরাও ছিলেন। জেলার পুলিস সুপার ওয়াই রঘুবংশী-সহ অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন অনুজ শর্মা। এদিকে এখনও পর্যন্ত তদন্তে বেরিয়ে এসেছে একাধিক অজানা তথ্য। বেশ কিছু অজানা জিনিস সিট ও তদন্ত কারী দলের নজরে এসেছে বলেই বিশেষ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তের ক্ষেত্রে প্রধানত দু'টি বিষয় তাঁদের ভাবাচ্ছে। তাঁরা জানতে পেরেছেন, মন্ত্রী জাকির হোসেনের স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসার অভ্যাসে, গত কয়েক মাস আগে পরিবর্তন এসেছিল। আগে স্টেশনে আসার সময় তাঁর সঙ্গে অল্প কয়েকজন অনুগামী আসতেন। কিন্তু গত কয়েকমাস ধরে শ্রমদফতরের প্রতিমন্ত্রী স্টেশনে এলেই কয়েকশো কর্মী-সমর্থক তাঁর সঙ্গে আসতেন। প্ল্যাটফর্মে ওঠার অনেক আগেই তাঁর গাড়ি দাঁড়িয়ে যেত। তিনি সেখান থেকে অনুগামীদের সঙ্গে হেঁটে প্ল্যাটফর্মে উঠতেন। হঠাৎ করে কেন এই পরিবর্তন ঘটেছিল, সেই বিষয়টি আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন।

দ্বিতীয়ত, জাকির হোসেন সাধারণত নিরপত্তারক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরতে পছন্দ করতেন না। প্রায়শই তিনি মানুষের ভিড়ে মিশে যেতেন। তাই, চাইসে অন্য যে কোনও জায়গাতেই তাঁর উপর হামলা করাই যেত। কিন্তু, সব জায়গা ছেড়ে হামলাকারীরা কেন নিমতিতা রেলস্টেশনেই বিস্ফোরণ ঘটালো, সেই দিকটিও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। আগে থেকেই স্টেশনে হামলার ছক কষা হয়েছিল, পরে সুযোগ বুঝে হামলা চালানো হয়েছিল কিনা, সেই বিষয়েও খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।

নিমতিতা স্টেশনে বিস্ফোরণস্থলের পরিদর্শনে সিআইডি-র এডিজি অনুজ শর্মা

গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জাকির হোসেনের কাছে কলকাতার বৈঠকের খবর এসেছিল ১৩ ফ্রেব্রুয়ারি। তিনি জানার পর সেই বৈঠকের খবর আরও অনেকেই জেনে গিয়েছিল। হামলাকারীও সেই খবর তাড়াতাড়িই পেয়েছিল, বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। কারণ, অত্যাধুনিক ডিভাইস দিয়ে এই ধরনের বিস্ফোরক তৈরি করতে বেশ কয়েকদিন সময় লাগে। আগে থেকে খবর পাওয়াতেই বিস্ফোরক তৈরির জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছিল তারা, এমনটাই তদন্তকারীদের অনুমান।

হামলার ছক বেশ আগে থেকে করা হলেও, বিস্ফোরকটি ঘটনার রাতেই স্টেশনে রাখা হয়েছিল বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ ওইদিন নিমতিতা স্টেশনে রেলের একটি কর্মসূচি ছিল। রেলের আধিকারিকরা সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন। রেলের কর্মসূচির আগে আরপিএফ-এর জওয়ানরা প্ল্যাটফর্ম পরীক্ষাও করেছিল। তাই ঘটনার খুব আগে সেখানে বিস্ফোরক রেখে যাওয়াটা অসম্ভব। গোয়েন্দাদের অনুমান, বাইকে করে এসে বিস্ফোরকটি স্টেশনে রেখে গিয়েছিল হামলাকারী। সেই কারণে ওইদিন সন্ধ্যায় স্টেশনে যে বাইকগুলি এসেছিল, সেগুলির সন্ধান করা হচ্ছে। ঘটনার পর প্ল্যাটফর্মের বাইরে দু'টি বাইক উদ্ধার হয়েছিল। তবে সেগুলি ছিল মন্ত্রীর অনুগামীদের।

যে বিষয়টি, গোয়েন্দাদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে, তা হল, বোমাটির প্রকৃতি। রাজ্য গোয়েন্দারা একেবারে নিশ্চিত এটি স্থানীয়ভাবেই তৈরি করা হয়েছে। তাই, অপরাধীদের সন্ধান না পাওয়া গেলে, তারা আগামী দিনে আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে। অথচ, ঘটনার পর বেশ কয়েকটা দিন কেটে গিয়েছে। এখনও কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা তো দূর, গোয়েন্দারা এখনও ঘটনার তলই খুঁজে পাচ্ছেন না। চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারাও এই ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারেন। প্রাথমিকভাবে তাঁরাও খোঁজখবর নিয়েছে বলে খবর রয়েছে।