যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র। দীর্ঘ দিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের ভোটরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রী। কলকাতা পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয়েছে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র। এটি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। দীর্ঘ দিন ধরেই এই কেন্দ্রটি বামেদের দখলে ছিল। একসময় রাজ্যের বামদূর্গগুলির অন্যতম ছিল যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র।  ১৯৬৭ সাল থেকেই এই কেন্দ্র বামেদের দখলে ছিল। ১৯৮৭ সাল থেকে যাদবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিএম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরপর পাঁচ বার এই এখান থেকেই জয়ী হয়ে বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পালাবদলের সময় অর্থাৎ ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মণীষ গুপ্তর কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। গত লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে হেরেছিলেন বাম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। কিন্তু যাদবপুর বিধানসভা থেকে তিনি প্রায় ৫-৬ হাজার ভোটে লিড নিয়েছিলেন। 


তবে এই কেন্দ্রীটি বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। পরের বিধানসভা নির্বাচন অর্থাৎ ২০১৬ সালে রাজ্যে দ্বিতীয় বার ক্ষমতা দখলের সময় রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়জয়াকার হলেও জিততে পারেননি তৎকালীন মন্ত্রী মণীষ গুপ্ত। তিনি পরাজিত হয়েছিলেন সিপিএম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তীর কাছে। আগের বিধানসভা নির্বাচনে জোট হয়নি। কিন্তু এবার বাম কংগ্রেস ভোটের দিন ঘোষণার আগেই থেকে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করার কথা ঘোষণা করেছে। দলীয় সূত্রের খবর এই কেন্দ্রটি নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে বামেরা। তাই ভোটের আগে এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন যাবদপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি কী নিজেদের দখলে রাখতে পারবে বামফ্রন্ট। 

যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্র
২০১৬ সালের নথি অনুযায়ী এই কেন্দ্রে নথিভুক্ত ভোটারের সংখ্যা ২,০৪,২১০। গত বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪,৫৮ শতাংশ। গত বিধানসভা নির্বাতনে বাম প্রার্থী সুজন চক্রবর্তী প্রায় ৯৯ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকে মণীষ গুপ্তর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮৪ হাজার। প্রায় ১৪ হাজার ভোট পেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী মোহিত কুমার রায়। 

তবে কী দেশে আছড়ে পড়ল দ্বিতীয় ঢেউ, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় ৫ রাজ্যকে চিঠি কেন্দ্রের ...

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তৈরি নীল নকশা, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিজেপির ভোট কৌশল বৈঠক ...

এবার এই রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই অন্যরকম। কারণ গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই এই রাজ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বিজেপি। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গেও সংগঠন বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবির। যার একটি বড় রকমের প্রভাব ইভিএম-এ পড়বে বলেও আশা করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে মূলত ত্রিমুখী লড়াই হবে এই কেন্দ্রে। তৃণমূল কংগ্রেস, বাম-কংগ্রেস জোট ও বিজেপি- রাজ্যের যুযুধান তিন রাজনৈতিক দলই এই কেন্দ্রে একে অপরকে আটকে ভোট যুদ্ধ জয়ের জন্য মরিয়া প্রয়াস চালাবে বলেও আশা করা হচ্ছে।