তৃনাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় / পশ্চিম বর্ধমান: যাদের বাড়িতেই হানা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, তারাই কয়েকদিন বাদে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে। রাজ্য জুড়ে এমনই অভিযোগ করছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবার সেই অভিযোগের বাইরে রইল না শিল্পাঞ্চল আসানসোলও। মাত্র কয়েকদিন আগেই উত্তর আসানসোলে কয়লা ব্যবসায়ী জয়দেব মন্ডলের বাড়িতে হানা দিয়েছিল সিবিআই। তাঁকেও গেরুয়া শিবিরে যোগদানের জন্য চাপ দিচ্ছে বিজেপি, এমনই অভিযোগ করলেন আসানসোলের বারাবনি এলাকার দাপুটে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অসিত সিং।

তিনি বলেছেন, কয়লা মাফিয়াদের মঞ্চে তুলে প্রকাশ্যে যোগদান করাচ্ছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং ও বিজেপি জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘরুই। রাজু ঝা, জয়দেব খা, কৃষ্ণেন্দু তার প্রমান। যদিও একদিন আগেই একদিন আগেই আসানসোলে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, রাজু ঝা, জয়দেব খাঁ-রা কেউ বিজেপি নেতা নন। তারপরেও জয়দেব মন্ডলের উপর বিজেপিতে যোগদানের চাপ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অসিত সিং। অপরদিকে, বারাবনি বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের মতে নিজেদের বাঁচাতে বা নিজেদের গচ্ছিত সম্পত্তি ও ব্যবসা বাঁচাতেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি-তে যাচ্ছেন দলের একাংশের নেতারা। এই পরিস্থিতিতে জয়দেব মণ্ডলও সেই পথে পা বাড়াবেন কিনা সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়।

প্রসঙ্গত, একসময়ের কয়লা ব্যবসায়ী জয়দেব মন্ডল আসানসোল শিল্পাঞ্চলে অত্যন্ত পরিচিত নাম। বহু মানুষের সাংসারিক নির্ভরতা রয়েছে তার উপর। শোনা যায়, আসানসোলের অন্তত ১১টি গ্রাম নির্ভর করে তার উপর। মেয়ের বিয়ে থেকে মৃতের সৎকার - সব ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ পাশে পান জয়দেব মন্ডল কে, এমনটাই প্রচার শিল্পাঞ্চলে। একসময় তিনি বাম শিবিরে ছিলেন, ২০১১ সালের পর পরিবর্তনের নিয়মে ভিড়েছিলেন ঘাসফুল শিবিরে। এখন আবার গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েকদিন আগে এশিয়ানেট নিউজ বাংলাই প্রথম জানিয়েছিল, বিজেপি তে যোগ দিতে চলেছেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি ঘনিষ্ট তৃণমূল নেতা অভিজিৎ আচার্য্য। রবিবারই আসানসোলের পরিবর্তন যাত্রায় তিনি সস্ত্রীক বিজেপির পতাকা ধরেছেন।