তাপস দাস: নাগরিকত্ব ইস্যু ফের সামনে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিম মেদিনীপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, এনপিআর করার সরকারি লোক এসে বাড়িতে কাউকে না পেলে, তাঁর নাগরিকত্ব ছিনিয়ে নেবে। মমতা জোর দিয়ে বলেছেন, “আমরা এখানে রেজিস্টার আপডেট করতে দেব না।” মমতার ঘোষণা, “বাংলা থেকে একটি পরিবারের একজন সদস্যকে, কোনও নাগরিককে উৎখাত করতে দেব না।” 

গড়বেতার জনসভায় মমতা বলেছেন, ভোটের সময়ে বিজেপি নেতারা হেলিকপ্টারে করে আসেন, টাকা দিয়ে লোভ দেখান আর ভোট লুঠ করে নিয়ে যান। এদিনের ভাষণে তিনি আমফান দুর্নীতির কথা একভাবে স্বীকারও করে নিয়েছেন। মমতা বলেছেন, “তৃণমূল সরকার আমফানের সময়ে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। তবে দুএকটি পরিবার ত্রাণের আওতা থেকে বাদ পড়ে থাকতে পারে।” মমতার প্রশ্ন, সে সময়ে বিজেপি নেতারা কী করছিলেন। একভাবে নিজের করা প্রশ্নের উত্তরও দিয়েছেন নন্দীগ্রামের প্রার্থী। তিনি বলেছেন, কোনও বিপর্যয়ের সময়ে বিজেপির কোনও নেতাকে দেখা যায় না। 

এনপিআর প্রসঙ্গে মমতা এদিন বিজেপির ‘গেমপ্ল্যান’ ফাঁস করে দিয়েছেন। তার অ্যান্টিডোটও দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যাঁদের আত্মীয়স্বজনরা কাজের সূত্রে বাইরে রয়েছেন, তাঁদের ভোটের সময়ে ফিরে আসতে অনুরোধ করুন। ভোট দিতে বলুন। না হলে ওরা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেবে আর নাগরিকত্ব কেড়ে নেবে।” আসামের কথা উল্লেখ করে মমতা বলেন, সেখানে ১৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একই জিনিস বিজেপি এখানেও করতে চায় বলে মমতা অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আপনারা খুব ভাল করে জানেন যে আমি এখানে এনপিআর করতে দিইনি। ওরা চায় লক্ষ লক্ষ বৈধ নাগরিককে উৎখাত করতে। 

তবে উল্লেখযোগ্য ভাবে, এদিন এনপিআর নিয়ে তোপ দাগলেও, সিএএ নিয়ে একটি কথাও খরচ করেননি তিনি। সিএএ এই ভোটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, বিশেষ করে মতুয়াদের জন্য। মতুয়ারা সিএএ চান, তাঁদের বৈধ নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে। মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক এমনিতেই ভাগাভাগি হয়ে গিয়েছে। এর উপর মমতা যদি সিএএ-র বিরুদ্ধে মুখ খোলেন, তবে তা তৃণমূল ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় আঘাত হানতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বিষয়ে সচেতন। অতিমারীর আগে দেশ জোড়া সিএএ-বিরোধী আন্দোলন যখন তীব্র হয়েছিল, তখন মমতা এই আন্দোলনের অগ্রণী সমর্থকদের একজন ছিলেন।