শুক্রবার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরই নির্বাচন কমিশনের তীব্র সামালোচনা করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন কমিশেনরে এই সিদ্ধান্তের পিছনে বিজেপি সরকারের ইন্ধন রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেছেন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্যে আট দফাতেই নির্বাচন হবে। আগামী দিনে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

কিন্তু একটা সময় ছিল যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ৬ দফা নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সালটা ছিল ২০১১। সেই সময় রাজ্যে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময় রাজ্যে ৬ দফায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। আর কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণায় করেছিলেন দলের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেছিলেন, রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা খুবই খারাপ, রাষ্ট্রের মদতে চলছে সন্ত্রাস, রাজ্যসরকার অস্ত্র সংগ্রহ করছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমানে ছবিটা পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন বাংলার মসনদে তিনি। আর সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ অন্যান্য রাজ্যের প্রসঙ্গ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করেছেন কেন রাজ্যে ৬ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

এই রাজ্যের যখন বামেরা ক্ষমতায় ছিল তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়ই অভিযোগ তুলতেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। মাঝে মাঝেই তিনি রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিতেও সরব হয়েছিলেন। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ আলাদা। বর্তমান বিজেপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা বারবারই অভিযোগ রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা অবনতি হয়েছে। রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা। তবে এদিন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। কংগ্রেস নেতা মনোজ চক্রবর্তী বলেছেন অতীতে এই রাজ্যে যেভাবে নির্বাচন হয়েছ তাতে আট নয় ১২ দফায় ভোট গ্রহণ করা উচিৎ ছিল নির্বাচন কমিশনের।