আসন্ন বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান আক্রমণ 'বহিরাগত'। তৃণমূলের প্রধান নির্বাচনী স্লোগান - 'বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়'-এর মধ্যেও তার ছাপ স্পষ্ট। কিন্তু, একেবারে প্রথম থেকে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একের পর এক সভায় দাবি করেছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীই হবেন। আর এবার যা শোনা যাচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত সত্যি হলে, ফিল্মের পর এবার বাস্তবেই বাংলার মসনদে বসতে পারেন 'এমএলএ ফাটাকেষ্ট'।

হ্যাঁ, বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসাবে সর্বশেষ যে বাঙালি নামটি ভেসে আসছে, তা হল মিঠুন চক্রবর্তী। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, আগামী রবিবার নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে মঞ্চে থাকতে পারেন, এই আদ্যপান্ত বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা। শুধু উপস্থিত থাকাই নয়, সেখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগও দিতে পারেন তিনি। আর তারপর তাঁকেই বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে তুলে ধরা হতে পারে। আর যাইহোক, মিঠুন চক্রবর্তীকে 'বহিরাগত' বলতে পারবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে, অভিনেতা মিঠুনের প্রথম সংশ্রব ছিল অবশ্য প্রয়াত সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে। প্রয়াত জননেতার ডাকে সব কাজ ফেলে ছুটে আসতেন তিনি। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বেও তাঁকে বাম সরকারকেই সমর্থন করতে দেখা গিয়েছিল। এমনকী রমলা চক্রবর্তীর হয়ে ভোট প্রচারও করেছিলেন তিনি।

এরপর অবশ্য পরিবর্তনের পর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছিল মমতার সঙ্গে। ২০১৪ সালে মিঠুনকে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় সাংসদ করে পাঠান তৃণমূল নেত্রী। কিন্তু, ২০১৬ সালে সারদা চিট ফান্ড কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘদিন তাঁকে রাজনীতির আঙিনায় দেখা যায়নি।

অবস্থাটা পাল্টাতে শুরু করে, চলতি বছর বসন্ত পঞ্চমীর দিন থেকে। ১৬ ফেব্রুয়ারি, মিঠুনের বাড়িতে গিয়েছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তারপর থেকেই তাঁর বিজেপি-তে যোগদানের জল্পনা চলছে। প্রথমে শোনা গিয়েছিল ব্রিহেডের সভায় শুধু মিঠুন নন, আরেক অভিনেতা প্রসেঞ্জিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক তথা বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও বিজেপি-তে যোগ দেবেন। সৌরভ ও বিজেপির পক্ষ থেকে সেই জল্পনায় ইতি টানা হয়। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ব্রিগেডে মিঠুন একাই থাকবেন।