তাপস দাস, প্রতিনিধি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে ভঙ্গিতে কথা বলছেন সে নিয়ে আপত্তি তুলল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী শশী পাঁজা এদিন কৃণমূল ভবনে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আচরণের নিন্দা করা হয়। 

এদিনের বৈঠকে শশী পাঁজার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মেদিনীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ও অভিনেত্রী জুন মালিয়া ও অধ্যাপিকা অনন্যা চক্রবর্তী। জুন তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের কোনও প্রধানমন্ত্রী আজ পর্যন্ত কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ ধরনের বাচনভঙ্গি ব্যবহার করেননি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পদের একটা গুরুত্ব রয়েছে, যে পদ সারা দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী। মহিলাদের অসম্মানকারীদের বাংলার মা-বোনেরা রাজ্যের ক্ষমতায় আসতে দেবেন না বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ১০ বছরে রাজ্যে মহিলাদের ক্ষমতায়ন হয়েছে।

করোনা মহামারির দ্বিতীয় ঢেউ রুখতে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচটি দাওয়াই, দেখে নিন কী কী বললেন মোদী ...

নন্দীগ্রামের বয়াল নিয়ে মমতার হাতে লেখা চিঠি, অভিযোগ খারিজ করল নির্বাচন কমিশন ...

অনন্যা চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে জানিয়ে দেন তিনি একজন নারীবাদী। তিনি বলেন, যাঁরা ধর্মের ভিত্তিতে লড়াই করছেন, তাঁদের জানা উচিত ধর্ম কাকে বলে। অনন্যা জানান, তাঁর মা ছিলেন একজন সংস্কৃতজ্ঞ, তিনি শিখিয়েছিলেন, ধর্ম শব্দের অর্থ মূল্যবোধ সমন্বিত জীবন কাটানো। তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচনী ফর্মে পর্যন্ত নিজের স্ত্রীকে স্বীকৃতি দেন না, ফলে তিনি মেয়েদের কী চোখে দেখেন তা স্পষ্ট। এই মূল্যবোধরহিত রাজনীতির বিরোধিতা করেন তিনি। 

জুন মালিয়া বলেন, তিনি ২৪ বছর অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। কোন কথা কোন টোনে বললে তা স্বাভাবিক হয়, আর কোন ভঙ্গিতে বললে তা অপমানকর হয়, তা স্পষ্টতই বোধগম্য। 

শশী পাঁজা বলেন, নরেন্দ্র মোদী যা করেছেন, তা আইনের চোখেও অন্যায়। মানুষের আদালত যেমন এর বিচার করবে, তেমনই দেশের আইনও মহিলাদের হেনস্থার বিরুদ্ধে। দেশের প্রশাসনিক প্রধান এই ধরনের পদক্ষেপ করলে তা যে উদ্বেগের কারণ, সে কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।