২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কি তাহলে সত্য়ি সত্যিই বারাণসী কেন্দ্রে দেখা যাবে বহু প্রতীক্ষিত মোদী বনাম মমতা লড়াই? শুক্রবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের তরফ থেকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। শনিবার, বাংলায় প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের সেই চ্যালেঞ্জ শুধু গ্রহণ করলেন না মোদী, এক কদম এগিয়ে জানিয়ে দিলেন, বারানসীতে অন্তত মমতাকে কেউ 'বহিরাগত' বলবে না।

এদিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার সোনারপুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস এখনই বলছে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দিদি বারাণসী থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট। এক, দিদি বাংলায় তাঁর পরাজয় মেনে নিয়েছেন। অন্যথায় কেন তিনি বাংলার বাইরে লড়তে যাবেন? দ্বিতীয়ত, দিদি ইতিমধ্যে রাজ্যের বাইরে নিজের জন্য কেন্দ্র খুঁজছেন।' মমতাকে তীব্র ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, বিজেপি সরকার হলদিয়া ও বারাণসিকে জলপথের সংযুক্ত করেছে বলেই মমতার মন বারাণসীর দিকে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বারাণসী, কাশী, উত্তরপ্রদেশের মানুষ অনেক বড় মনের মানুষ। তাই কেউ মমতাকে বহিরাগত, বা পর্যটক বলবে না। কিন্তু, টিকিওয়ালা, তিলক কাটা, জয় শ্রী রাম এবং হর হর মহাদেব বলা গাদা গাদা মানুষ দেখে মমতার প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, তা নিয়েও রসিকতার ছলে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

এই, দ্বন্দ্বের সূচনা হয়েছিল গত ১ এপ্রিল। নন্দীগ্রামে ভোট চলাকালীনই  প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও একটি জনসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্য কোনও আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন কিনা, এই প্রশ্ন ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। মোদী দাবি করেছিলেন, নন্দীগ্রামের মানুষ মমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু, অন্য কোনও আসনে লড়তে গেলেও মমতা প্রত্যাখ্যাতই হবেন।

জবাবে মমতা নিজে এবং তাঁর দল বারবার দাবি করেছে, মমতা নন্দীগ্রাম থেকে জিতবেন। আর অন্য কোনও আসন থেকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও অভিপ্রায় নেই। তৃমমূল কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে আরও একধাপ এগিয়ে বলা হয়েছিল, যদি মমতা অন্য কোনও আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেনই, সেই ক্ষেত্রে সেই আসন হবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বারাণসী লোকসভা কেন্দ্র, যা প্রধানমন্ত্রী মোদীর কেন্দ্র।