জেলায় জেলায় একের পর এক সভা করে চলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি গিয়েছিলেন নিজ লোকসভা এলাকা দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে। সেখানে স্থানীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে তিনি এক রোডশোতে অংশ নিয়েছিলেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণের অদ্ভূতভাবে একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স এসে বাধা সৃষ্টি করে। তা কি একেবারেই কাকতালীয়, নাকি এটা কোনও রাজনৈতিক কৌশন - তৈরি হয়েছে বিভিন্ন জল্পনা।

শুক্রবার, ডায়মণ্ড হারবারে দিদির দূত লেখা প্রচারগাড়িতে করে প্রচার করছিলেন অভিষেক। এক জায়গায় সেই প্রচার গাড়ি দাঁড় করিয়ে জনতার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন তিনি। যেই তিনি বক্তব্য রাখতে শুরু করেন, অমনিই একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ীর চারপাশের সমবেত জনতার ভিড় অতিক্রম করে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। অভিষেক অ্যাম্বুলেন্স দেখে সেটিকে যাওয়ার জন্য পথ করে দিতে বলেন সমর্থকদের। তাড়াহুড়ো করতেও বারণ করেছিলেন।

প্রথম অ্যাম্বুলেন্সটি ভিড় অতিক্রম করে যেতে শুরু করতেই তার পিছন পিছন আরও একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে দাঁড়ায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো দ্বিতীয় অ্যাম্বুলেন্সটিকেও যাওয়া জায়গা করে দেন। সেটি অত্যন্ত ধীর গতিতে ভিড়ের মধ্যে দিয়ে যায়। জনগণকে সেই সময়ে অভিষেক বলেছিলেন, অসুবিধা হলেও অ্যাম্বুলেন্সটি যেতে দিতে। তারপরই তিনি বলেন, 'দেখুন, বিজেপি এবং আমাদের মধ্যে এটাই পার্থক্য। দিলীপ ঘোষের মিছিলের মধ্য দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যেতে চাইলে ওরা আটকে দেয়। আমরা রাস্তা করে দিই।'

গত বছর জানুয়ারি মাসে নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে এক জনসভায় দিলীপ ঘোষ ভাষণ দেওয়ার সময় সেই সভার মধ্য দিয়ে একটি অ্যাম্ববুলেন্স যেতে চেয়েছিল। বঙ্গ বিজেপির সভাপতি অ্যাম্বুলেন্সটিকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। বহু মানুষ দিলীপ ঘোষের তীব্র সমালোচনা করেছিল।

ফিরে আসা যাক, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুক্রবারের সভায়। দুটি অ্যাম্বুল্যান্স যাওয়ার পর তিনি মাত্র কয়েক মিনিট বলতে পারেন। তারপরই আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স আসায় তাঁকে বক্তব্য থামাতে হয়। আবার তিনি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রাস্তা করে দেন। তবে এই অ্যাম্বুলেন্সটি খালি ছিল। তাই দেখে মাইকেই অভিষেক জিজ্ঞেস করেন, অ্যাম্বুলেন্সটি খালি কেন, সেটি কি এখন রোগী আনতে চলেছে?

এই সময় উপস্থিত তৃণমূল সমর্থকরা দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় বিঘ্ন ঘটানোর জন্য বিজেপিই এই অ্যাম্বুলেন্সটি পাঠিয়ে  থাকতে পারে। তাতে কিন্তু বিন্দুমাত্র উত্তেজিত হননি অভিষেক। বরং বলেন, বিজেপি অ্যাম্বুলেন্সটি পাঠিয়ে থাকলেও সেটিকে যাওয়ার জন্য রাস্তা করে দেওয়া উচিত। অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে সেটি বিজেপি-সিপিএম দেখার মানে হয় না। তারা ইচ্ছে  করে পাঠিয়ে থাকলে মানুষ ভোটেই তার জবাব দেবেন বলে জানান তিনি। তাঁর ধৈর্য অনেক দাবি করে তিনি বলেন, চাইলে তিনি দুই ঘন্টা অপেক্ষা করতে পারেন, এমনকী পরের দিন সকাল অবধিও ওইখানেই থেকে যেতে পারেন। অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে লাভ  হবে না।

একটি সভায় পর পর তিনটি  অ্যাম্বুলেন্স-এর ব্যাখাত ঘটানো কি নেহাতই কাকতালীয় ঘটনা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তৃণমূলের অভিযোগ মতো বিজেপি সভা বিঘ্নিত করতে অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়ে থাকতে পারে। তবে, বারবার এই বাধা থেকে লাভ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তাহলে কি হুইল চেয়ারের পর বাংলায় নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য অ্যাম্বুলেন্স রাজনীতি? জল্পনা বাড়ছে।