তাপস দাস, প্রতিনিধি, সি ভোটার ও টাইমস নাও সমীক্ষায় গত সপ্তাহে দেখা গিয়েছে, তৃণমূল এবারের ভোটের ফলে এগিয়ে থাকলেও বিজেপির ভোটশেয়ার ৩৮ শতাংশ হবে। ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি ৯৯ থেকে ১১৫টি আসন পেতে চলেছে এই রাজ্যে। 
সমীক্ষার হিসেল অনুযায়ী, বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট পেতে চলেছে ১৫ শতাংশ ভোট শেয়ার। আসন সংখ্যার হিসেবে ২৯ থেকে ৩৭টি আসন। 

২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের সঙ্গে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের একটা তুল্যমূল্য ছবি দেখা যায়, তাহলে কয়েকটা বিষয় স্পষ্ট হবে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের আসন সংখ্যা ও ২০১৯ সালের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আসনসংখ্যার হিসেব করলে দেখা যাবে, ভাজপার জনসমর্থন ঠিক কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি পেয়েছিল তিনটি আসন। ১৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রাপ্ত আসনসংখ্যা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাচ্ছে বিজেপি এগিয়েছিল ১২১টি বিধানসভা আসনে। অর্থাৎ তাদের প্রজেক্টেড আসনসংখ্যা বেড়েছিল ১১৮টি। অন্যদিকে ওই একই নিরিখের বিশ্লেষণে দেখা যাবে ২০১৬ সালে তাদের দখলে ২১১ আসন থাকলেও ২০১৯ সালের প্রজেক্টেড হিসেবে তাদের আসনসংখ্যা ৬৪টি কমে যায়। 

ওই একই নিরিখ বিশ্লেষণ করে তফশিলি জাতি উপজাতি আসনসংখ্যার হিসেব করলে দেখা যাবে ২০১৬ সালে বিজেপি এ ধরনের আসনে জয়লাভ করেছিল মাত্র একটি ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস জিতেছিল এ ধরনের ৫৯টি আসনে। ২০১৯ সালের প্রজেকশনে দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস তফশিলি জাতি উপজাতি কেন্দ্রের আসনে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে পড়েছে, তারা হারিয়েছে ২৫টি আসন। অন্যদিকে বিজেপির লাভ হয়েছে বহুল পরিমাণে। প্রজেকশন তাদের এ ধরনের ৪৬ আসনে জয় দেখাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, রাজ্যে এ তফশিলি জাতি উপজাতি আসনের সংখ্যা মোট ৮১টি। 

যে ৪৫টি আসনে বিজেপির লাভ দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে ৩২টি এসেছে তৃণমূলের থেকে, ৬টি বামেদের থেকে ও ৭টি কংগ্রেসের থেকে। অর্থাৎ স্পষ্টতই দলিত ভোটের বিশাল অংশ গেরুয়া শিবিরে গিয়েছে, এবং তা সব দল থেকেই। 

পিছিয়ে পড়া বর্গের এই ভোট বদল, মমতা স্পষ্টতই বুঝতে পারছেন। সে কারণেই তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে, রাজ্যে ফের তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তফশিলি গোষ্ঠীভুক্তদের প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।  

তবে এ ঘোষণায় তফশিলি ভোটের চিঁড়ে কতটা ভিজবে, তা সময়ই বলবে।