সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। দলে যে বাড়তি গুরুত্ব পেতে চলেছেন শুভেন্দু তা অমিত শাহ রাজ্য সফরে একাধিকবার বুঝিয়ে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করবেন  রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। ভূমিপুত্রকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে সেই কথাও বার বার বলেছেন অমিত শাহ। এই পরিস্থিতিতে পালটা আক্রমণের পথে হেটেছে শাসদক দল তৃণমূল কংগ্রেসও। শুভেন্দুকে আক্রমণ করার পাশাপাশি পালটা চালল হিসেবে পদ্ম শিবিরকেও ধাক্কা দিয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-য়ের স্ত্রী সুজাতা খাঁ। তবে এসব কিছুকেই তোয়াক্কা না করেই নিজের লক্ষ্যে অবিচল শুভেন্দু। জানা যাচ্চে নিজের শাসক দলকে আরও ধাক্কা দিতে ও বিজেপির সংগঠন শক্তিশলী করতে নিজের 'মাস্টার প্ল্যান' তৈরি করে ফেলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে চলতি সপ্তাহ থেকেই সেই পরিকল্পনা কার্যকর করতে শুরু করবেন বিজেপি নেতা। 

 

জেলায় জেলায় বিজেপির সংগঠন বৃদ্ধি-
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দিনই রাতে অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ত্রের খবর, সেই বৈঠকে সংগঠনের উপর বাড়তি জোর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। এছাড়াও মেদিবীপুরের কলেজ মাঠের সভা থেকেই  শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করবেন তিনি। সংগঠনকে মজবুত করবেন। আর কথা মতই চলতি সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু করছেন প্রাক্তন মন্ত্রী। এই সপ্তাহ থেকেই জেলা সফর শুরু করছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলে থাকাকালীন পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদহ এই পাঁচটি জেলার পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে ছিলেন শুভেন্দু। এই পাঁচ জেলায় শুভেন্দু অধিকারী নিজের একটি শক্ত সংগঠনও তৈরি করেছিলেন। জানা যাচ্ছে, প্রথমে এই পাঁচ জেলা দিয়েই নিজের জেলা সফর শুরু করবেন শুভেন্দু। সেখানে শাসক দলের তৃণমূল স্তরে ভাঙন ধরানোর পাশাপাশি বিজেপির সংগছন মজবুত করার কাজ করবেন। ধীরে ধীরে অন্যান্য জেলাতেই এই কর্মসূচি চালাবেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর দায়িত্বে থাকা ৫ জেলাতে আলাদা করে সংগঠন টিকিয়ে রাখার জোর দিয়েছে শাক দলও।

 

তৃণমূল শীর্ষস্তরে ভাঙন ধরানো-
ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর কলেজ মাঠের সভাতে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ১০ জন বিধায়ক ও একজন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আগামি দিনেও যে শাসক দলে ধস নামবে সেকথা মেদিনীপুরের সভাতেই জানিয়েছেন অমিত শাহ ও শুভেন্দু। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ কণিষ্ক পাণ্ডা আগেই জানিয়েছিলেন, আর এখনও সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে আগামি দিনে কমপক্ষ ৫০ থেকে ৬০ বিধায়ক ও ১০ থেকে ১২ জন সাংসদ শাসক দল ছেড়ে যোগ দেবেন বিজেপিতে। নির্বাচনের আগে দল ভাঙার ঘাসফুল শিবিরকে বড়সড় ধাক্কা দেওয়া পদ্ম শিবিরের অন্যতম স্ট্র্যাটেজি। 

 

সর্ব শক্তি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার-
রাজ্য সফর থেকে ফেরার আগে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ। সেখানে রাজ্য নেতৃত্ব এখন থেকেই পরিকল্পনামাফিক সর্বশক্তি দিয়ে নির্বাচনের প্রচারে নামার কথা বলেছেন তিনি। এবারের নির্বাচনী প্রচারে  শুভেন্দু অধিকারী বিজেপির অন্যতম প্রদান হাতিয়ার হতে চলেছে। জেলাস্তরে প্রচারে স্ট্র্যাটেজি অনেকাংশে শুভেন্দু অধিকারীই ঠিক করতে চলেছে। এছাড়া একাধিক রণনীতি রয়েছে, যা ধীরে ধীরে শুভেন্দু অদিকারী প্রয়োগ করবেন বলে জানা গিয়েছে বিজেপি সূত্রে। ফলে নির্বাচনী প্রচারে শুভেন্দুর 'মাস্টার প্ল্যান'-এর উপর ভরসা রাখছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।