মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ-সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচন নিয়ে জেলা নেতৃত্ব বনাম রাজ্য নেতৃত্বের দ্বৈরথ। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি, সহ-সভাধিপতি ও দুইজন কর্মাধ্যক্ষের নাম নির্বাচন  নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সেক্ষেত্রে জেলা নেতৃত্ব কে টপকে কার্যত রাজ্য নেতৃত্বই মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতির নাম চূড়ান্ত করবে বলেই সূত্রের খবর। ফলে শুরু হয়েছে রাজ্য বনাম জেলা নেতৃত্বের দ্বৈরথ। যোগ্য জনপ্রতিনিধিকে ওই পদের জন্য বেছে নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন, লম্বা ঘুম শেষে উঠলেন ফিরহাদ, খোশ মেজাজে মদন, পছন্দের সিনেমা দেখলেন সুব্রত 

 

 

লালবাগ মহকুমার অন্তর্গত লালগোলা, ভগবানগোলা ও মুর্শিদাবাদ সহ একাধিক এলাকায় জেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা মুখিয়ে রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সভাপতি পদে নিজেদের নাম প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোশারফ হোসেন মণ্ডল পদত্যাগ করার পর ওই পদের জন্য বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে চর্চা চলছে। চার-পাঁচজন চেয়ার দখলের দৌড়ে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কাকে রাজ্য নেতৃত্ব কুর্শিতে বসাবে সেটা জেলার নেতাদের অনেকেরই অজানা। কয়েকজন সদস্য জেলা নেতাদের ধরে ওই পদে বসার জন্য মরিয়া চেষ্টাও শুরু করেছেন। কলকাতায় রীতিমতো দৌড়ঝাঁপ করছেন তারা।তবে জেলা নেতৃত্বর সিদ্ধান্তে এবার আর সভাধিপতি নির্বাচিত হবে না। এমনই দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের একটা বড় অংশের। 

আরও পড়ুন, 'আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার খর্ব হয়েছে', আজ ফের নারদ-মামলা কলকাতা হাইকোর্টে 

 

 

রাজ্য নেতৃত্ব সবকিছু বিচার বিবেচনা করে নতুন সভাধিপতি বেছে নেবেন। ২১ মে জেলা পরিষদের সমস্ত সদস্য ও বিধায়কদের নিয়ে জেলা সভাপতি বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওইদিন বিধায়কদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা পরিষদের সদস্যদের বেশ কিছু গাইড লাইন বেঁধে দেওয়া হবে। ওই বৈঠকের আগেই নতুন সভাধিপতির নাম জেলায় পাঠানো হবে, নাকি পরে পঠানো হবে সেটাও এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রসঙ্গত, ২৪ মে জেলা পরিষদের আস্থা ভোট ছিল। তার আগেই সভাধিপতি পদ্যতাগ করেছেন। তাই আর ভোটের প্রয়োজন হচ্ছে না। সভাধিপতি ছাড়াও সহ সভাধিপতি ও দু’জন কর্মাধ্যক্ষর পদেও নতুন মুখ আনা হবে। তার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল সাংসদ তথা জেলা তৃণমূল সভাপতি বলেন, রাজ্য নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবেন তা সকলকেই মেনে চলতে হবে"। সভাধিপতির পদে যোগ্য ব্যক্তিকেই বসানো হবে।

আরও পড়ুন, কোভিডে শুধু কলকাতাতেই মৃত্যু পেরোল ৪ হাজার, স্বজন হারিয়ে হাহাকার রাজ্যবাসীর 

দলের অনেকেরই দাবি, মুর্শিদাবাদের মতো বড় জেলায় যোগ্য ব্যক্তিকে ওই পদে বসানো না হলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। জেলার অধিকাংশই গ্রামীণ এলাকা। সেই কারণে জেলার উন্নয়নে জেলা পরিষদের বড় ভূমিকা রয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদে ৭০জন সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১ কর্মাধ্যক্ষ মারা গিয়েছেন। আর ১ কর্মাধ্যক্ষ নির্দল প্রার্থী হয়ে ভোটে লড়েছেন। এছাড়া জেলা পরিষদের আরও ২ সদস্য নির্দল প্রার্থী হয়েছিলেন। সহ সভাধিপতিও দল ছেড়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে জমে উঠেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি সহ-সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের দৌড়ের প্রতিযোগিতা।