তৃতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র তাারকেশ্বর। এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রাজ্যসভার সদ্য প্রাক্তন সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। দুই-দুইবার তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের হামলার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ। হামলায় তাঁর মাথাও ফেটে গিয়েছে। সকাল থেকেই একের পর এক অভিযোগ এসেছে হুগলির এই হাই প্রোফাইল কেন্দ্র থেকে।

তারকেশ্বরের এক বুথে বিজেপি এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়টি দেখতে গিয়েছিলেন স্বপন দাশগুপ্তের নির্বাচনী এজেন্ট অরিন্দম চক্রবর্তী। তাঁকে প্রথমে ভয় দেখিয়ে, হুমকি দিয়ে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য করে তৃণমূল কর্মীরা, এমনটাই অভিযোগ। তারপর সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময় ইট, বাঁশ নিয়ে তার গাড়ির উপরও হামলা হয়। সেই সময়ই আঘাত লেগে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।

এরপর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে অরিন্দম চক্রবর্তী গিয়েছিলেন নিশ্চিন্দিপুরে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত স্বয়ং। কিনতু, এখানেও বিজেপির নির্বাচনী এজেন্টের উপর চড়াও হয় তৃণমূল কর্মীরা। রীতিমতো তাঁকে ধাক্কা মেরে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছে সুরাহা চেয়েও কোনও লাভ পাননি অসহায় অরিন্দম চক্রবর্তী।

তবে শুধু স্বপন দাশগুপ্তের নির্বাচনী এজেন্টের মাথা ফাটিয়ে দেওয়াই নয়, এই কেন্দ্রে এদিন কাল থেকেই বারবার শাসক দলের উপর হামলার অভিযোগ করেছে বিজেপি। এদিন সকালে বুথ পরিদর্শনেরবেরিয়েই প্রথমে জামদারা শ্রীপাঠী বিদ্যাপীঠে এসেছিলেন স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানে বুথে দলীয় এজেন্ট ছিল না। নেই। জানা গিয়েছিল গত সাতদিন ধরে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপি এজেন্টকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

সাংবাবাদিক-রাজনীতিবিদ স্বপন কিন্তু, এজেন্টকে বুথে বসিয়েই তবে বের বুথ ছাড়েন। পুলিশের আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানান। ধরমপুরের একটি স্কুলের বুথে আবার বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি সমর্থক এক মহিলার কান ছিঁড়ে দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর অভিযোগও রয়েছে। স্বপন দাশগুপ্ত নিজেই জানিয়েছেন অনেক বুথে রাজ্যপুলিশের সদস্যদের দেখেছেন তিনি। তারা ভোটদান প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে বলে কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

অন্যদিকে, বিজেপির বিরুদ্ধেও তারকেশ্বরের ২৬০ এবং ২৬০-এ বুথ সংলগ্ন এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার এক জায়গায় অভিযোগের নিশানায় সিআরপিএফ-এর মহিলা জওয়ানরা। সেখানকার মহিলা ভোটারদের বিজেপির পক্ষে ভোট দিতে চাপ দিচ্ছেন তাঁরা, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে।