শনিবার (২৭ মার্চ), রাজ্যে প্রথম দফার ভোট গ্রহণ। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুয়ায়ী বৃহস্পতিবার শেষ প্রচার। এদিন তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীরা শেষ দফার প্রচারে ঘাম ঝরালেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করলেন তেমনই বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অমিত শাহ ঝাড়গ্রামে জনসভা করেন। অন্যদিনে এদিন বিজেপির হয়ে প্রচার শুরু করে মিঠুন চক্রবর্তী। যোগী আদিত্যনাথ রাজনাথ সিং-এর প্রথম সারির নেতাদের উস্থিততে এদিন সকাল থেকে উত্তপ্ত ছিল রাজ্যের ভোট ময়দান। প্রচার যুদ্ধে তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে ছিল সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীরা। 

প্রথম দফয়ায় যে ৩০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হবে তারমধ্যে রয়েছে জঙ্গলমহলের ১৪টি কেন্দ্র। গত বিধানসভা নিরিখে এই এলাকায় প্রবল অধিপত্য বিস্তার করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তুলনায় পিছিয়ে পড়েছিল বামেরা। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অনেকটাই পিছিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমানে অনেকটাই বদলে গেছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ। লোকসভা নির্বাচন থেকেই জঙ্গলমহলে মাথা তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে গেরুয়া শিবির দ্বিতীয় স্থানে ঠেলে দিয়েছে ঘাসফুলকে। তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপি যখন যুযুধান তখন দলীয় সংগঠন গুছিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে বামেরা। তৃণমূলের দাপটে বন্ধ হয়ে যাওয়া দলীয় অফিস গুলিও খোলা শুরু হয়। তাই বাংলার ভোট মানচিত্রে জঙ্গলমহল বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক ঝলকে জঙ্গলমহলের ভোট কেন্দ্রঃ


একটা সময় ছিল এই এলাকায় বামেদের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। গোটা জঙ্গলমহলই ছিল লাল। কিন্তু বাম জমানার শেষ কয়েকটা বছর ধীরে ধীরে এই এলাকায় পায়ের তলার মাটি সরতে থাকে তাদের। বাড়তে থাকে মাওবাদীদের অত্যাচার। আর সেই সময় জঙ্গলমহলের রাজনীতিতে পা রাখেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল ভোটবাক্সে। জঙ্গলমহলের বাসিন্দারা ভরিয়ে দিয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমোকে। মাওবাদী আক্রমণ প্রতিহত করার পাশাপাশি মাওবাদীদের পুনর্বাসন দেওয়ার মত প্রকল্প গ্রহণ করেছিল তৃণমূল সরকার। আর সেই সময় থেকেই প্রায় দিশেহারা হয়েগিয়েছিল হয়েগিয়েছিল বামেরা। দলীয় সূত্রের দাবি এখন তারাও ঘর গুছিয়ে নিয়েছে। 

অভিনেত্রী থেকে ডাক্তার, এক নজরে দেখে নিন প্রথম দফার ১০ নজরকাড়া প্রার্থী ...

'২ বছরেই ডেঙ্গু ম্যালেরিয়া নির্মূল' ঝাড়গ্রাম থেকে বড় প্রতিশ্রুতি অমিত শাহর ...

প্রথম দফায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে রাজ্যের ১০ হেভিওয়েট প্রার্থী। আর ঝাড়গ্রামকে বলা যেতেই পারে ব্যাটেল গ্রাউন্ড। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদা. বামপ্রার্থী মধুজা সেন রায়। বর্তমান ভোট ময়দানে প্রতিপক্ষ হলেও এঁরা দুজনেই একই স্কুল থেকে পড়াশুনা করেছেন। অন্যদিকে বিজেপি দাঁড় করিয়েছে সুখময় শাতপথীকে। এছাড়া প্রথম দফার নির্বাচনে জঙ্গলমহলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিতর্কিত বাম নেতা সুশান্ত ঘোষ. দেবলীনা হেমব্রম, পুলিন বিহারী বাস্কে, কংগ্রেসের দীর্ঘ দিনের বিধায়ক নেপাল মাহাত।