ফের ২০২১ সালের বঙ্গ ভোটের ময়দানে উঠে এল 'পাকিস্তান' প্রসঙ্গ। দিন কয়েক আগেই শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। বৃহস্পতিবার, বীরভূম জেলার নানুরের এক স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতার বিরুদ্ধে চারটি পাকিস্তান তৈরির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যন্ত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেছেন। এই অবস্থায়, বিতর্কিত ওই নেতা, 'তৃণমূলের কেউ নয়' বলে সাফাই দিয়েছেন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল।

বুধবার বীরভূমের নানুরের বাসাপাড়ায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য শেখ আলম বলেন, '৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু একজোট হলে দেশের ভারতবর্ষে চারটি পাকিস্তান তৈরি হবে। সেই ক্ষেত্রে ভারতবর্ষের ৭০ শতাংশ কোথায় যাবেন?' শুধু পাকিস্তান তৈরির হুমকিই নয়, ২১ বছর আগের নানুর গনহত্যার স্মৃতিও উসকে বিজেপিকে প্রচ্ছন্ন হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেখ আলমের বিরুদ্ধে।

২০০০ সালের ২৭ জুলাই সকালে, নানুরের সুচপুরে একটি বাড়ি থেকে ১১ জনকে বের করে পিটিয়ে, কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। সেই খুনের দায়ে এখন ৪৭ জন তৃণমূল নেতা-কর্মী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডেরর সাজা ভোগ করছেন। সেই হত্যালীলার স্মৃতি মনে করিয়ে শেখ আলম বলেন, 'বিজেপি যেভাবে পথ সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলছে তাতে আমাদের ছেলেরা মনে করলে লাঠি সোঁটা দিয়ে তাদের ফেলে দিতে পারত। দ্বিতীয় সুচপুর তৈরি হত'।

এদিন, ওই ভয়ঙ্কর বক্তৃতার ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। শেখ আলমের পাশে দেখা যায় জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূল নেতা কেরিম খানকে। বস্তুত, তিনিই ছিলেন ওই পথসভার আয়োজক। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান তথা পশ্চিমবঙ্গের সহ-পর্যবেক্ষক অমিতত মালব্য ভিডিওটি টুইট করে অভিযোগ করেন, মমতার তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্যই শেখ আলমরা এরকম দেশভাগের স্বপ্ন দেখছেন। কৈলাশ বিজয়বর্গিয় বলেছেন, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।    

আরও পড়ুন - 'ভাইপো'র জন্যই কি ডুবছে তৃণমূল, নাকি আসন্ন নির্বাচনে তিনিই 'দিদি'র অক্সিজেন

আরও পড়ুন - বঙ্গ ভোটে পদ্ম হাতে ৯ মুসলমান, বিজেপি কি সত্যিই সংখ্যালঘু-বিরোধী - কী বলছেন প্রার্থীরা

আরও পড়ুন - মমতা, আব্বাস না বিজেপি - কোথায় যাবে মুসলিম ভোট, বাংলার নির্বাচনে এবার সবথেকে বড় ধাঁধা

বেকায়দায় পড়ে শেখ আলম দাবি করেছেন, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য প্রসঙ্গেই তিনি ওই কথা বলেছেন। অন্যদিকে কেরিম খানের দাবি, শেখ আলম কোনও দিন বক্তব্য রাখেন না। আবেগপ্রবণ হয়েই ওসব বলে ফেলেছেন। বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সাফাই, শেখ আলম তাঁদের দলের কোনও পদাধিকারী নন। তাঁর ওই মন্তব্যও দল সমর্থন করে না।

তবে, বিজেপির নানুরের মণ্ডল সভাপতি প্রতাপ ঘোষের অভিযোগ, তৃণমূলের কলকাতার মেয়রই প্রথম মিনি পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গকে বৃহত্তর বাংলাদেশ গড়তে চাইছেন। ফলে নিচুস্তরের নেতা-কর্মীরাও নিজেদের মনের ইচ্ছে প্রকাশ করছেন, এতে আশ্চর্যের কিছু নেই।