ভোটের আগে ফের বাংলায় আত্মপ্রকাশ করল আরও একটি রাজনৈতিক দল। দিন কয়েক আগেই তৈরি হয়েছে আইএসএফ। যা চিন্তা বাড়িয়েছে শাসক দলের। এবার মুর্শিদাবাদে আরও একটি নতুন দল চিন্তা বাড়াল গেরুয়া শিবিরের। বহুদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াই চলছিল বিজেপির প্রবীণ সদস্যদের। এমনকি দেশের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপাইয়ের সময় থেকে যারা মুর্শিদাবাদে বিজেপি দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রয়েছেন, আজ তারা দলে ব্রাত্য বলেই অভিযোগ।  দলে থেকে মর্যাদা মেলে না। মিটিং-মিছিলেও ডাক আসে না। তাই  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে কান্দি মহাকুমার অন্তর্গত ঘনশ্যামপুর গ্রামের আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা নিজেরাই রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। বৃহস্পতিবার নতুন দলের নাম দেওয়া হল  ‘বঙ্গ ভারত পার্টি’।

কান্দি শহর থেকে প্রায় কয়েকশো কিলোমিটার দূরের একাধিক  গ্রামের প্রবীণ মানুষেরা  বহু বছর ধরে বিজেপি করে আসছেন। অনেকেই বহু বছর ধরে এলাকায় সংগঠন ধরে রেখেছেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁদের আর দল তাদেরকে গুরুত্ব দেয় না বলে অভিযোগ। নতুন দলের নেতাদের বক্তব্য, সম্প্রতি এলাকায় বিজেপির কী কাজকর্ম হচ্ছে তা তাঁদের জানাচ্ছে না স্থানীয় নেতৃত্ব। দলের কোনও সভায় ডাকা হচ্ছে না। আবার সভায় গেলেও সেখানে কোনও সম্মান মিলছে না। কিন্তু যাঁরা তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছেন তাঁদের মাথায় তুলে রাখা হচ্ছে। তাই কয়েকমাস ধরে ওই গ্রামের বিজেপি কর্মীরা ক্ষোভে ফুঁসছিলেন। এরপর তাঁরা নতুন দল গঠনের জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। দিন কয়েক আগেই নতুন দলের সদস্যরা আলোচনা করে সেখানে ঠিক হয়, এখন থেকে গোটা রাজ্যে তাঁরা নতুন দলের সদস্য হওয়ার জন্য প্রচার চালাবেন। 

নতুন দল গঠনের পর কমিটির সভাপতি তপন পাল বলেন, বহু বছর ধরে আমরা বিজেপি করি। কিন্তু এখন নিজেরাই ব্রাত্য হয়ে পড়েছি। দলে কোনও সম্মান পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ অন্য দল থেকে আসা নেতাদের মাথায় তুলে রাখা হচ্ছে। তাই আমরা নতুন দল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি"।এব্যাপারে দক্ষিণ মুর্শিদাবাদ জেলার বিজেপির সভাপতি গৌরী শংকর ঘোষ বলেন, এমনটা আমাদের জানা নেই।আমরা দলের পুরাতন অর্থাৎ প্রবীণ সদস্যদের সবসময় সম্মান দিই।জানিনা কি ঘটনা ঘটেছে পুরোটা খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে"।এব্যাপারে কটাক্ষ করে এদিন জেলা তৃণমূল সভাপতি আবু তাহের খান বলেন,"আসলে বিজেপিতে এখন তৃণমূলের উচ্ছিষ্ট টা পুরোটাই ভর্তি করে ফেলেছে। স্বাভাবিক কারণেই ওই দলের প্রবীণ সদস্যদের কোন জায়গা নেই। সেই কারণেই মুর্শিদাবাদের ক্রমশ ফাটল ধরেছে গেরুয়া শিবিরে। বিধানসভা নির্বাচনে ভোটে বিজেপির হার শোচনীয়ভাবে হবে"। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই নতুন দলকে খুব একটা আমল দিতে রাজি নয়।