ভোটের আগে মাদক মামলা নিয়ে অস্বস্তিতে বিজেপি (BJP)। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্যকমিটির সদস্য রাকেশ সিং-এর বাড়িতে হানা দিল কলকাতা পুলিশের মাদক বিরোধী বিভাগের সদস্যরা। এর আগেও বিজেপির সর্বভারতীয় সবাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনার সময়ও শিরোনামে উঠে এসেছিল এই রাকেশ সিংয়ের নাম। কিন্তু কে এই রাকেশ সিং? কেন বারবার বিতর্কিত ঘটনায় জড়াচ্ছে তাঁর নাম? তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ই বা কী? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

রাকেশ সিং-এর রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, বাম আমল থেকেই শাসকদলের বিরুদ্ধে বারবার পথে নেমে অনুগামীদের নিয়ে শক্তিপ্রদর্শন করে গ্রেফতার হতে হয়েছে। গন্ডগোল পাকানো, হামলা, ভয় দেখানো, হুমকি, সরকারি কাজে বাধাদান-সহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে প্রত্যেকবারই জামিনে ছাড়াও পেয়ে গিয়েছেন। দক্ষিণ কলকাতার আলিপুর চিড়িয়াখানা এলাকার এই বাসিন্দা আদতে ছিলেন দাপুটে কংগ্রেস নেতা। ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনের আগেই তিনি শিবির বদলে বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন।

তার আগে কংগ্রেসের শ্রমিক নেতা হিসাবেই বাংলার রাজনীতিতে পরিচিত ছিলেন রাকেশ সিং। একদিকে যেমন তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় অন্যদিকে একই রকম বিতর্কিতও বটে। কংগ্রেসে তিনি ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরীর অনুগামী। আদালত চত্ত্বরেই এক মামলার সাক্ষী ও কতর্ব্যরত পুলিশদের হেনস্থা করার অভিযোগে এর আগে রাকেশ-সহ ১২ জনকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। সেই সময় আলিপুর প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে রাকেশের সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছিলেন অধীর। এমনকী, জেল থেকেই তাঁকে মনোনয়নও দিতে চেয়েছিলেন বলে শোনা যায়। শেষ পর্যন্ত তা ঘটেনি।

তবে, কলকাতা পুর নির্বাচনে ৭৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে কংগ্রেস-এর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল অধীর অনুগামী  রাকেশ সিং-এর। এরপরও 'দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার' সিনেমার প্রদর্শন বন্ধ করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কলকাতার এক শপিংমলে হামলা চালানোর ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। গ্রেফতার করেছিল গুন্ডাদমন শাখা। এরপরই, ধীরে ধীরে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা শুরু হয় তাঁর। শেষ মুহূর্তে এই ডাকাবুকো নেতাকে দলে ধরে রাখতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারাও চেষ্টা করেছিলেন। তাতে কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে মুকুল রায় এবং কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের উপস্থিতিতে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্র থেকে লোকসভায় প্রার্থীও হন তিনি। কিন্তু, দল বদলালেও শক্তি প্রদর্শনের স্বভাব ছাড়তে পারেননি তিনি। কলকাতায় অমিত শাহর রোড শো'কে কেন্দ্র করে কলকাতার রাস্তায় নজিরবিহীন ঝামেলা ও বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনাতেও তিনি অভিযুক্ত। ওই মিছিলে 'ফাটাফাটি গ্যাং'কে জড়ো করার জন্য তাঁর একটি  ভিডিও বার্তা সেইসময় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। গ্রেফতারও করা হয়েছিল তাঁকে। এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলেরই এক যুবনেত্রী মাদক মামলায় জড়িয়ে দিলেন কংগ্রেস থেকে বিজেপি-তে আসা রাকেশ সিং-এর নাম।