শনিবার (১৬ জানুয়ারি) ভারতের কোভিড মোকাবিলায় এক ঐতিহাসিক দিন। এদিন সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে গোটা দেশের মতো পশ্চিমবঙ্গেও শুরু হয়েছে কোভিড-১৯ টিকাকরণ অভিযান। কিন্তু এই ঐতিহাসিক দিনেও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের হাত ধরে তৈরি হল বিতর্ক। স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেই টিকাকরণের প্রথমদিনই ভ্য়াকসিন পেলেন রাজ্যের তিন তৃণমূল নেতাও, যারমধ্যে দুজন বর্তমান এবং আরেকজন প্রাক্তন বিধায়ক।

এদিন পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার স্টেট জেনারেল হাসপাতালে টিকা নেন ভাতারের তৃণমূল বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল এবং প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা। অন্যদিকে, ওই জেলারই কাটোয়ায় করোনা টিকা নেন কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও। আর টিকাকরণের প্রথমদিনই এই তিন তৃণমূল নেতার টিকা পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায় একেবারে শুরুতেই রয়েছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকর্মীরা। তাহলে এই বিধায়ক ও প্রাক্তন বিধায়করা কীভাবে প্রথমদিনই করোনা টিকা পেলেন, উঠেছে সেই প্রশ্ন।

টিকা নিলেন প্রাক্তন বিধায়ক বনমালী হাজরা, ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়

আসলে করোনা টিকাকরণে এই বিধির মধ্যেই রয়েছে ফাঁক। সুভাষ মণ্ডল এবং বনমালী হাজরা-কে টিকা দেওয়া প্রসঙ্গে ভাতার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফাই, তাঁরা দুজনেই হাসপাতালের রোগী কল্যান সমিতির সদস্য। সেই হিসাবেই তাঁদের টিকা দেওয়া হয়েছে, বিধায়ক হিসাবে নয়। কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে একই যুক্তি। তিনি রোগী কল্যান সমিতিকর চেয়ারম্যান বলে দাবি করা হয়েছে। রোগী কল্যান সমিতির অংশ হিসাবেই তাঁদের নাম অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কাজেই এই ক্ষেত্রে বিধিভঙ্গ হয়নি বলে দাবি দুই হাসপাতালেরই।

এই বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তবে রোগী কল্যান সমিতির সদস্য বা চেয়ারম্যানকে কোন যুক্তিতে স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মী হিসাবে বিবেচনা করা হল, সেই প্রশ্ন উঠছেই। আর যদি তা বিধি সম্মত হয়েও থাকে, তাহলেও নিয়মের ফাঁক গলে এইভাবে জনপ্রতিনিধিদের টিকা গ্রহণ করা নিয়ে উঠছে নৈতিকতার প্রশ্নও। সব মিলিয়ে ভারতে করোনা টিকাকরণ অভিযানের প্রথমদিনই টিকা কেলেঙ্কারিতে জড়ালো তৃণমূল কংগ্রেসের নাম।