খাতায়-কলমে সিমকার্ডের মালিক একজন, কিন্তু বাস্তবে সিমকার্ডটি ব্যবহার করছেন অন্য কেউ! মেদিনীপুর শহরে ভুয়ো সিমকার্ড চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে শহরের একটি মোবাইল দোকানের  মালিককে।  ধৃতের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি চালু  ও চালু না হওয়া সিমকার্ড ও নথিপত্র। 

ধৃতের নাম বান্টি চৌধুরী। মেদিনীপুর শহরের একটি মোবাইলের দোকান চালায় সে। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে বান্টিকে গ্রেফতার করেছে কোতুয়ালি থানার পুলিশ। তদন্তকারীরা  জানিয়েছেন, দোকানে যখনই কোনও গ্রাহক সিমকার্ড চালু করার জন্য আসতেন, তখন কৌশলে তাঁর নথিপত্রের প্রতিলিপি নিজের কাছেও রেখে দিত বান্টি। পরে সেই নথি ব্যবহার করে আরও একটি সিম চালু করে নিত সে। অর্থাৎ যাঁরা নিজের নামে সিমকার্ড চালু করার জন্য ওই মোবাইলে দোকানে আসতেন, তাঁদের নামে আরও সিম চালু হয়ে যেত। গ্রাহকরা টেরও পেতেন না।  নিয়মমাফিক যাঁর নথিপত্র ব্যবহার করে সিম চালু করা হয়, সিমটির মালিক হন তিনিই। সোজা বাংলায়, মেদিনীপুর শহরে বেনামী সিমকার্ড বিক্রি করত অভিযুক্ত বান্টি।  আর তাতে গ্রাহকের বিপদও কিন্তু কম নয়। কারণ বেনামী সিমকার্ডটির যদি কোনও অপরাধীর হাতে পড়ে কিংবা কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হয়, সেক্ষেত্রে যাঁর নথিপত্র ব্যবহার করে সিমকার্ডটি চালু করা হয়েছে, তিনি পুলিশের নজরে চলে আসবেন।  শেষপর্যন্ত সোমবার রাতে গোপনসূত্রে খবর পেয়ে মেদিনীপুর শহর থেকে অভিযুক্ত মোবাইল দোকানের মালি বান্টি চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে স্রেফ বান্টিই নয়, মেদিনীপুরে শহরে অনেকেই এমন সিমকার্ডের ব্যবসা করছেন বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানিয়েছেন, অপরাধের তদন্তে করতে গিয়ে অনেক সময়ই দেখা যায়,  সিমকার্ড ব্যবহার করে অপরাধ করেছে একজন, অথচ নথি মোতাবেক সিমকার্ডটি অন্য কারও।  কীভাবে এমনটা সম্ভব? তদন্তে নেমে পুলিশ আধিকারিকরা বুঝতে পারেন, মেদিনীপুর শহরে ভুয়ো সিমকার্ডের ব্যবসা চলছে।  এই বেআইনি কারবার রুখতে পদক্ষেপও করেছে প্রশাসন। পুলিশ সূত্রে খবর, বান্টিকে জেরা চক্রের বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি চালাবে পুলিশ। জেলা জুড়ে চলবে অভিযানও।  

ভুয়ো সিমকার্ডের কারবার রুখতে কিন্তু স্রেফ পুলিশি সক্রিয়তা বা প্রশাসনিক পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়।  সাধারণ মানুষকে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার। তিনি বলেন,  সিমকার্ড চালু করার জন্য গ্রাহকের ছবির প্রয়োজন। সাধারণত মোবাইলের দোকানে গেলে দোকানের মালিক কিংবা কর্মচারীই মোবাইলে ছবি তুলে দেন। কোনও দোকানে আবার একবারের বদলে দুবার ছবি তোলা হয়। গ্রাহককে বলা হয়, প্রথম ছবি ঠিকমতো ওঠেনি। সেক্ষেত্রে মোবাইল দোকানের মালিক বা কর্মচারী ফোনে কিন্তু গ্রাহকের দুটি ছবিই থেকে যায়। এভাবেই গ্রাহকদের ছবি ব্যবহার করে বেনামে সিমকার্ড চালু করে নেয় প্রতারকরা।