বাঁকুড়ায় নদীতে ছুড়ে ফেলা হল শিশুকে সেতুর উপর থেকে গন্ধেশ্বরী নদীতে কাপড়ে বেঁধে ফেলা হয় পরে উদ্ধার হয় শিশুটির মৃতদেহ ঘটনায় শিশুটির ঠাকুমা-সহ গ্রেফতার দুই

রাতের অন্ধকারে গন্ধেশ্বরী নদীর সেতু থেকে এক শিশুকে নদীবক্ষে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় বাঁকুড়া সদর থানার লহ্মীতড়া এলাকায়। শিশু ছুড়ে ফেলার ঘটনায় অভিযুক্ত সন্দেহে এক মহিলা সহ দু' জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন শিশুটির ঠাকুমা বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

শুক্রবার রাত দশটা নাগাদ ষাট নম্বর জাতীয় সড়কের গন্ধেশ্বরী সেতুর উপর থেকে ওই শিশুটিকে নদীতে ছুড়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। সন্দেহ হওয়ায় এক পুরুষ ও মহিলাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পরেই শিশুর খোঁজে নদীতে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। বাঁকুড়া সদর থানায় খবর দেওয়া হলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে অনেক দেরিতে আসে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে যৌথভাবে নদীতে তল্লাশিতে হাত লাগান বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ কর্মীরাও। ভোর তিনটে নাগাদ আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কোন জয়গায় শিশুটিকে ফেলা হয়েছিল তা জানতে পেরে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। কী কারণে শিশুটিকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল তা জানতেই তদন্তে নামে বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ। 

ধৃত দু' জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের দাবি, সদ্যোজাত ওই শিশুটির পরিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়ে থাকে। শিশুটি জন্মের পর থেকেই কঠিন অসুখে ভুগছিল। বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি কলকাতাতে চিকিৎসা করিয়েও লাভ হয়নি। সম্ভবত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেই শিশুটিকে নদীর জলে ফেলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধৃতরা অবশ্য পুলিশের কাছে দাবি করেছে, কলকাতায় চিকিৎসা করিয়ে ফেরার সময় পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়। তাই নদীর জলে দেহ ফেলে দেন তাঁরা। স্থানীয়দের অবশ্য দাবি, শিশুটিকে নীচে ফেলার সময় তাঁরা কান্নার আওয়াজ পেয়েছেন। শিশুটিকে খুন করা হয়েছে বলেই তাঁদের অভিযোগ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ধৃত দু' জনকে জেরা করছে পুলিশ। অভিযুক্ত মহিলার নাম অমিতা সৎপতি। ওই মহিলা শিশুটির ঠাকুমা। এছাড়াও যামিনী রঞ্জন মণ্ডল গোস্বামী নামে মহিলার এক আত্মীয়কেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ দিন তাদের বাঁকুড়া আদালতে তোলা হবে।